Home : খবর : বিচিত্র ব্যঞ্জনায় বিজয় বন্দনা : ১ মুজিবাদর্শের সূর্যসৈনিক রূহুল ইসলাম ও একগুচ্ছ একাত্তরের চিঠি

বিচিত্র ব্যঞ্জনায় বিজয় বন্দনা : ১ মুজিবাদর্শের সূর্যসৈনিক রূহুল ইসলাম ও একগুচ্ছ একাত্তরের চিঠি

আব্বাস উদ্দিন আহমেদ : একাত্তরে আমার বয়স ছ’-সাত বছর হলেও বেশ কিছু জাজ্জ্বল্যমান স্মৃতি এখনও রয়েছে যা আমি সারাজীবনেও বিস্মৃত হতে পারবো না। তবে আমার ফুফাতো ভাই একেএম রূহুল ইসলাম সাদী; তাঁর কথাই কেন জানি বেশি বেশি মনে পড়ে। বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন যেমন স্বাধীনতা, তেমনি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধা, যেন চির সবুজের বুকে এক সাগর রক্তের আল্পনা। কিন্তু যারা তাদের বুকের তপ্তরক্তে রাঙিয়ে তুলেছে রক্তিম পতাকা, তাদের কজনইবা এসেছে ইতিহাসের পাদপ্রদীপে? এভাবেই যুগে-যুগে, দেশে-দেশে একঝাঁক নিভৃতচারী সেনানী রয়ে যায় ইতিহাস নামক পর্দার অন্তরালে। আমি আজ এমনই এক নিভৃতচারী, মুজিবাদর্শের সূর্যসৈনিক ও স্বাধীনতা সংগ্রামীর কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবো, যিনি তাঁর মেধা ও মননে ধারণ করেছেন বাংলা মাকে; এমনকি জীবন দিয়ে ছিনিয়ে এনেছেন বাংলার স্বাধীনতা, রক্তের আখরে লিখে গেছেন স্বমহিমা। বর্তমান রাজবাড়ি জেলার পাংশা উপজেলার বয়রাট গ্রামের মুক্তিযুদ্ধের এই বীরসেনানীর নাম একেএম রূহুল ইসলাম, ডাকনাম সাদী। মা-বাবার ১১ সন্তানের মধ্যে [৮ পুত্র ও ৩ কন্যা] তিনি দ্বিতীয়। বড়ভাই একেএম আমিরুল ইসলাম হাদী ছিলেন তৎকালীন পিজি হাসপাতাল [বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়] এর ক্যাশিয়ার। পাকিস্তান এয়ারফোর্সের এয়ারক্রাফ্ট ইঞ্জিনিয়ার তরুণ অফিসারটি ইসলামাবাদ-লাহোর-করাচি কিংবা পেশোয়ার-রাওয়ালপিণ্ডি থেকে আপনজনকে লেখা আবেগময় পত্রে পারিবারিক প্রসঙ্গের পাশাপাশি দেশের কথা, দেশকে নিয়ে তাঁর স্বপ্ন ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন অকপটে। সযত্নে সংরক্ষিত তাঁর লেখা একাত্তরের চিঠি ১ নিয়ে দু’চার কথা তুলে ধরছি। বর্তমান নিবন্ধকারের ফুফাতো ভাই এই বিমানসেনা ছিলেন ছিপছিপে লম্বা এবং ভীষণ ফর্সা। বিজয়ের আস্বাদ ২ নামে লেখা কবিতায়ও তা যেন ফুটে উঠেছে প্রাঞ্জল ভাষায় :
ছোট্টবেলায় যখন মা আমাকে নাইয়ে দিতেন। তখন আপনখেয়ালেই বলে উঠতামÑ আমাকে সাদী ভাইয়ের মতন ফর্সা করে দাও। নির্ভেজাল কর্তব্যনিষ্ঠ এক মোহনীয় আদর্শ যেন সৌম্যকান্তির প্রতিমূর্তি সাদী ভাই হারিয়ে গেলেন বিজয়ের দুই ঘণ্টা আগে। …
২০-০৫-১৯৭১-এ বড়ভাইকে তিনি লিখেছেন : আমি জানি ও নিজেও প্রতি মুহূর্তে বুঝতে পারছি, আব্বা প্রায় পাগল হয়ে গেছেন ; এক্ষেত্রে তাঁকে সান্ত্বনা দেয়া ছাড়া কিছুই নাই। আব্বাকে খুব বুঝায়ে ও সান্ত্বনা দিয়ে যেভাবেই হোক চিঠি দিবেন আর আমার কথা ও চন্দনের কথাও লিখবেন যে, তারা সবদিক দিয়ে ভালো আছে। বর্তমানে বিশেষ কোনো কাজ-কর্ম করতে দেয় না। কারণ … ? তবে এখন শহরে ও সব জায়গায় বিনা বাধায় ঘোরাঘুরি করতে দিচ্ছে ও করছি। এছাড়া অন্য কোনো অসুবিধা হচ্ছে না, এজন্য আমার ব্যাপারে কোনো চিন্তা করবেন না। একই পত্রে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন Ñ দেশের জন্য ও নিজেদের যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য কোনো দুঃখ বা আফসোস করবেন না। কারণ যেখানে লক্ষ লক্ষ লোক প্রাণ দিল, সেই তুলনায় আমাদেরটা কিছুই না। আমরা জয়ী হবোই এটা সুনিশ্চিত। প্রাণঢালা শ্রদ্ধায় দেশবাসী যেন মনোবল রাখে অতীতের মতো। পত্রের শেষাংশে তিনি উল্লেখ করেছেন : বাড়ির জন্য ও দেশের জন্য কোনো চিন্তা করবেন না, আমাদের মতো সবারই একই অবস্থা। তবে তার পূর্বে রয়েছে : যদি সুযোগ হয় ছুটিতে চলে আসবো। একমাস পর [২১-০৬-১৯৭১] তিনি তাঁর বাবাকে লিখেছেন: দেশের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের পথে যাচ্ছে। এর জন্য চিন্তা করবেন না, দুঃখের পর সুখ একদিন আসবে। শুধু নিজেরা যাতে বেঁচে থাকতে পারেন, সেই চেষ্টা করবেন। আমার জন্য কেন চিন্তা করবেন ? আমি ও এদেশে যারা আছে, সবাই ফিরে আসবো। চেষ্টা করছি যতদূর সম্ভব হয় চলে আসবো। তবে আমাদের এখানে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। ঢাকা থেকে পথের মধ্যে অসুবিধা হতে পারে বলে আসছি না। যাহোক পরিস্থিতি একটু ভালো হলেই চলে আসবো।Ñএমনই সদিচ্ছাও ব্যক্ত করেছেন পত্রে।৩ নিবন্ধকারের বাবা অর্থাৎ পত্রলেখকের মামার কথাও লিখেছেন তিনি : মাখন মামার দোকান লুট হয়ে গেছে, মিয়াভাই-এর চিঠিতে জানলাম। ও’, সে নাকি ইণ্ডিয়া চলে গেছে! বর্তমানে নানিদের অবস্থা কী হচ্ছে, খোঁজ নিয়ে নানিকে আমাদের এখানে নিয়ে আসবেন।
পেশোয়ার থেকে ৩০-০৯-১৯৭১এ তাঁর বাবাকে লেখা আরেকটি পত্রে রয়েছে : এই চিঠি পাওয়ার আগে খুবই চিন্তার মধ্যে ছিলাম। চিঠি পেয়ে চিন্তা দূর হলো। মিয়া ভাই লিখেছেন, ছুটি পাচ্ছি না বলে যেতে পারছি না। যাহোক লিখেছেন, যত তাড়াড়াড়ি সম্ভব যেতে চেষ্টা করবেন। আমিও বাড়ি যাওয়ার জন্য বার বার লিখে দিয়েছি। ঘোর এক অমানিশার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন পত্রের পরবর্তী অংশে : এই পরিস্থিতিতে নিজেদের বাঁচানো ছাড়া উপায় নেই। কারণ বর্তমানে ধনী-গরিব সবই এক। এ পরিস্থিতিতে খুব সাবধানে চলবেন। কারণ ভবিষ্যতে এর চেয়ে খারাপ সময় আসছে। আমাদের জন্য কোনো চিন্তা করবেন না। বেঁচে থাকলে দেখা নিশ্চয়ই হবে। এই তরুণ মুক্তিসেনা দেশের সব খবরই রাখেন : বর্তমানে দেশেই জীবনের নিরাপত্তা নাই, কিন্তু এখানে সেটা আছে। দোয়া করি, যেন যেয়ে সবাইকে দেখতে পাই।৪ তিনি নির্দেশনাও দিয়েছেন পত্রে : বাড়ি ছাড়া কোথাও যাবেন না, নামায-কালাম বাড়িতেই পড়বেন। নানির সংবাদ নিয়ে যদি আমাদের এখানে আসে, তাহলে নিয়ে আসবেন। মামার খোঁজও নিয়ে সব জানাবেন। এক বছর পূর্বে ১৯৭০ সালের শেষাংশে তাঁর মামাকে লেখা পত্রে ৫ রূহুল ইসলাম জানিয়েছেন : আমি আগামী ১৫ই ডিসেম্বর-এর বিকালের ভষরমযঃ-এ ২টা ৩০ মিনিটে লাহোর থেকে ঢাকা যাচ্ছি। রাত্রিবেলা ঢাকায় থাকবো, পরদিন রওয়ানা হয়ে হয়তো ১৭ তারিখে দুপুরে বাড়িতে পৌঁছাবো। দোয়া করবেন যেন ভালোভাবে পৌঁছাতে পারি। এখানে বর্তমানে ভীষণ শীত। দিন-রাত সব সময় আকাশ মেঘলা, তার উপর বৃষ্টি। এখানে গরমের সময় বৃষ্টি হয় না, শুধু এই দুই মাস। যাহোক আমার স্বাস্থ্য ভালো আছে। আশা করছি সবাই মিলে একসঙ্গে ঈদ করবো। আপনি এবং ছোটনানা দুইজন যেভাবেই হোক ঈদ করে আমাদের এখানে আসবেন। আবার লিখছি, আসতে চেষ্টা করবেন যেভাবেই হোক। নানিকে ও মামানিকে আমার ছালাম দিবেন ও বলবেন দোয়া করতে যেন সুস্থ শরীরে ভালোভাবে পৌঁছাতে পারি। পত্রের শেষাংশে আছে : আশা, আব্বাছ দাদা ও আলমাসকে আমার স্নেহাশীষ দিবেন। আর শ্রেণিমতো সবাইকে বলবেন আমার ছালাম ও স্নেহাশীষ। রাজনীতিক ও কলামিস্ট মুস্তাফা সারওয়ার যদি ডাকো এপার হতেÑ এই আমি আর ফিরবো না ৬ শিরোনামে দৈনিক জনকণ্ঠের ‘স্মরণ’ কলামে এই শহীদ স্বাধীনতাসংগ্রামী সম্পর্কে অভিমত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন : মুক্তিযুদ্ধের বীরদের তথ্যকথা আমাদের জীবনে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে। একাত্তরের বীরত্বের গণসচেতনতাই বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্যে এক মহাসম্পদ। একাত্তরের এমনি একজন অজানা বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রূহুল ইসলাম সাদী যিনি ’৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের মাত্র ২ ঘণ্টা আগে সম্মুখযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন। যিনি ’৭১-এর জুলাই মাসে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পেশোয়ারে কাজে থাকা অবস্থায় পালিয়ে আসা এক সাহসী মুক্তিযোদ্ধা। এদেশে অবস্থানকারী স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়ে বেশি অবদান ছিল পাকিস্তানে আট্কে পড়া বাঙালি সৈনিকদের। প্রতিটি মুহূর্ত ওদের বুকে বুলেট ধরে রাখার মতো অবস্থা ছিল। এবার আমি উপস্থাপন করছি মুজিবাদর্শের সেই সূর্যসৈনিক রূহুল ইসলামের এক অজানা অধ্যায়।
ইংরেজদের মতো ফর্সা লম্বা দেহের সেই মানুষটি পেশোয়ার থেকে গোয়ালন্দ হয়ে পাংশা দিয়ে গ্রামের বাড়ি এসে প্রায় প্রতিটি মানুষের সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশের অর্থে করাচি-ইসলামাবাদেরই কেবল উন্নয়ন হচ্ছে, সে কথা বলতেন। তাঁর ইচ্ছে করতো বাবা-মা, ভাই-বোনদের নিয়ে একসঙ্গে বসে কথাবার্তা বলতে ও খাওয়া-দাওয়া করতে। ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একজন সৈনিক হিসেবে প্রতিটি মুহূর্তে দেশের চিন্তায় অস্থির থাকতেন তিনি। ‘দেশমাতাকে রোগমুক্ত করার সংগ্রাম করতেই হবে, সম্ভব হলে চলে আসবো।’Ñ এমন ঐকান্তিক সদিচ্ছা জানিয়ে তিনি প্রায়ই পত্র লিখতেন আপনজনদের কাছে। একাত্তরের উত্তাল দিনগুলোতে পেশোয়ার থেকে অতি দুঃখ-কষ্ট স্বীকার করে ভারতে বহুপথ পায়ে হেঁটে পালিয়ে এসে বাবা-মা ভাইদের কাছে কিছুদিন গোপনে থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে বিদায় নেয়ার সময় শুধু বলেছিলেন যে, তিনি আর কোনো দিন পেশোয়ার যাবেন না। এদেশে থেকেই মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করবেন। ঢাকায় একটা বাড়ি করবেন বলে হাসপাতালে চাকুরিরত বড়ভাইকে তিনি বলেছিলেন, অবশ্যই দেশ স্বাধীন হবে। শেষ পর্যন্ত তাই হলো। পালিয়ে আসা এই তরুণসেনা এক সময় পাকিস্তানি শত্রুদের হাতে ঘেরাও হওয়া অবস্থায় নিজের জীবন রক্ষার্থে আত্মসমর্পণ না করে ‘জয়বাংলা’ ধ্বনিতে শত্রুনিধন করতে করতে দেশ স্বাধীন করার জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিলেন।৭ দেশের জন্য এমন আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত খুবই বিরল। নিবন্ধকারের পিতা মুনশী আক্কাছ উদ্দিন আহমেদ এই স্বাধীনতাসংগ্রামীকে উৎসর্গ করে মাতৃমুক্তিপণ ৮ কবিতায় লিখেছেন Ñ
ফরিদপুর জেলার সেই লক্ষ্মীকোল গ্রাম Ñ স্বাধীনতাসংগ্রামী বীর রূহুল ইসলাম। ভুলিতে পারি না তোমায় এতো বড় শোক, ‘রোগমুক্ত করবো মাকে যে করেই হোক’। লিখতে তুমি এই কথা প্রতি চিঠির মাঝে, পাকিস্তান ছেড়ে তাই এলে দেশের কাজে, অপারেশনে করিতে দূর মায়ের সে রোগ ; (দিলে) ওদের বুকে লাথি মেরে মুক্তিফৌজে যোগ। কুমারখালি-খোকশা-মাছপাড়া দখল Ñ রাজবাড়ি দখলে আর হলে না সফল, বাংকারে রেখে তোমায় সঙ্গী-সাথিগণ ; আপন-আপন জান বাঁচাতে করলো পলায়ন। শহীদ হলে তুমি বিজয়ের শুভক্ষণে, আজ বড় ব্যথা বাজে তাই সকলের প্রাণে।
এই নবীন বিমানসেনা সম্পর্কে মুক্তিযুদ্ধের ৮নং সেক্টরের অধিনায়ক লে. কর্ণেল (অবঃ) আবু ওসমান চৌধুরী উল্লেখ করেন : এই তরুণ মুক্তিসেনা স্বাধীনতার জন্য যে- জীবন উৎসর্গ করেছেন, তা অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রাজবাড়ি শহরের পাশে শ্বেতপাথরে উৎকীর্ণ রয়েছে:
হে নবপ্রজন্ম, দাঁড়াও কিছুক্ষণ এই সমাধিস্থলে Ñ অবনত শিরে, পরম শ্রদ্ধাভরে, করহ স্মরণ অশ্রুসজলে ; এখানে চিরনিদ্রার কোলে শয়ান, রাজবাড়ীর তিন সূর্যসন্তান …।
সমাধিলিপিতে শহীদ সাদীর সঙ্গে নিহত অপর দুই সহযোদ্ধা শহীদ শফিক ও শহীদ রফিক-এর নামও যুক্ত রয়েছে। স্থানীয়ভাবে শহীদের গ্রামের বাড়ি বয়রাটে পাঠাগার, স্মৃতিসংঘ গড়ে উঠেছে তাঁর নামে। শহীদের ভাইয়েরা প্রতি বছর শহীদ রূহুল ইসলাম স্মৃতি ফুটবল টুর্ণামেন্ট আয়োজন করে থাকেন। ১৬ই ডিসেম্বর শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল ও কাঙালিভোজের আয়োজন করেন তাঁরা। ইতোমধ্যে এই অকুতোভয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মা-বাবা আর্থিক টানাপড়েনের ভেতর দিয়েই ইহলীলা সাঙ্গ করেছেন। কিন্তু এই নির্ভীকযোদ্ধার জন্যে যেন বিলম্বে হলেও একটি রাষ্ট্রীয় খেতাব বা সম্মাননার ব্যবস্থা করা হয় এবং তাঁর নামে সড়ক-সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা অপরাপর স্থাপনা গড়ে ওঠেÑ এমনই আকুতি তাঁর ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসীসহ শুভাকাক্সক্ষীদের। বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠনের রাষ্ট্রীয় অভিষেকে তাঁরা অনেকটাই আশাবাদী। মুজিবাদর্শের অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ সূর্যসৈনিক, স্বাধীনতা সংগ্রামী শহীদ রূহুল ইসলাম সাদীকে নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র, জীবনীগ্রন্থও হতে পারে; যা তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। বিলম্বে হলেও যেন তাঁর অবদানের স্বীকৃতি দেয়া হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ নানা সংগঠন-প্রতিষ্ঠানের প্রতি এমনই আকুল আহ্বান উত্তরসূরিদের। ৯
তথ্যসূত্র : ১. আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, শহীদ সাদী ও তাঁর একাত্তরের চিঠি, সাপ্তাহিক সেরাখবর, ১৫-১২-২০০৯ ২. আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, বিজয়ের আস্বাদ, আদ্যাক্ষরিকা ও কল্যাণীয়েষু, নির্বাচিত কবিতা ৩. আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, শহীদ সাদী ও তাঁর একাত্তরের চিঠি, প্রাগুক্ত ৪. প্রাগুক্ত ৫. প্রাগুক্ত ৬. মুস্তাফা সারওয়ার, যদি ডাকো এপার হতেÑ এই আমি আর ফিরবো না, দৈনিক জনকণ্ঠ, ডিসেম্বর ২০০১ ৭. দুরন্ত প্রকাশ, ২৬-১১-২০১৭ ৮. মুনশী আক্কাছ উদ্দিন আহমেদ, মাতৃমুক্তিপণ, সঞ্চয়নী, সৃজনী, ফেব্রুয়ারি ২০১৩। পৃ. ৪৮ ৯. স্বাধীনতাসংগ্রামী রূহুল ইসলামের পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যবৃন্দ ও রণাঙ্গনের সহযোদ্ধা

About Moniruzzaman Monir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*