Home : খেলাধুলা : মেসি আরও চার বছর বার্সেলোনায় থাকবেন?

মেসি আরও চার বছর বার্সেলোনায় থাকবেন?

অনলাইন ডেস্ক

আগস্টের সে আলোড়ন একটু থেমেছে। বার্সেলোনা ছাড়তে চেয়ে বুরোফ্যাক্স পাঠিয়েছিলেন মেসি। তখন ক্লাব সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ আইনের সাহায্য ছাড়া ক্লাব ছাড়ার উপায় খোলা রাখেননি মেসির সামনে। প্রিয় ক্লাবের বিরুদ্ধে আদালতে যেতে ইচ্ছা হয়নি অধিনায়কের। তাই এই মৌসুমে বার্সেলোনাতেই থেকে গেছেন মেসি।

বার্সেলোনা সমর্থকদের দুশ্চিন্তা তাতে একফোঁটা কমেনি। চুক্তি অনুযায়ী এই জানুয়ারিতে চাইলেই যেকোনো ক্লাবের সঙ্গে আগামী জুন থেকে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবেন মেসি। তাই এবারের শীতকালীন দলবদল দুরুদুরু বুকে শুরু করেছে ক্লাবের ভক্তরা। তবে ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ এক সাক্ষাৎকারে মেসি আশ্বস্ত করেছেন, অন্তত জুনের আগে এমন কিছু করবেন না।

সাবেক সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা জানুয়ারির নির্বাচনে আবার সভাপতি পদে দাঁড়িয়েছেন। আগের ক্লাব সভাপতির আচরণে ত্যক্তবিরক্ত হয়েই ক্লাব ছাড়তে চেয়েছিলেন মেসি, লাপোর্তা তাই নির্বাচনের জয়ের জন্য অস্ত্র মেনে নিয়েছেন মেসিকে। কাতালান ক্লাবের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়কে ধরে রাখতে পারা নিশ্চিত করলেই যে নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত তাঁর।

বিজয় নিশ্চিত করতে মেসিকে ধরে রাখার জন্য নিত্যনতুন উপায় বাতলাচ্ছেন লাপোর্তা। শুধু ২০২১–এর জুন নয়, মেসিকে ২০২৪ সালেও ক্লাবে দেখবেন এমন আশা লাপোর্তার। এর মধ্যেই বার্সেলোনাকে চকচকে নতুন এক স্টেডিয়াম দেখানোর আশাও করছেন। ক্যাম্প ন্যুকে নতুন করে বানানোর ইচ্ছা লাপোর্তার। আর নতুন স্টেডিয়ামেও মেসির খেলা দেখার আশা তাঁর।

নির্বাচিত হলে নিজের প্রথম কাজ হিসেবে অবশ্য স্টেডিয়াম পুনর্নির্মাণ নয়, মেসির চুক্তি বাড়ানোকেই বেছে নিচ্ছেন লাপোর্তা। ৩৩ বছর বয়সি মেসিকে শীর্ষ পর্যায়ে আরও অনেক দিন খেলতে দেখতে চান সাবেক সভাপতি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ১২৫ বছর পূর্তি হবে বার্সেলোনার। আর সে জয়ন্তীতে পাশে কাকে চান সেটাও তাঁর জানা, ‘আমরা আশা করি ক্যাম্প ন্যুর নতুন স্টেডিয়ামেই আমরা ক্লাবের ১২৫তম বর্ষপূর্তি পালন করব এবং সে সময় মেসি আমাদের সঙ্গেই থাকবে। স্টেডিয়ামের ব্যাপারটা সহজ নয়, কারণ এটা বানাতে দুই বছর লাগবে। সে তুলনায় লিওর ব্যাপারটা সহজ। মেসিকে সঙ্গে নিয়ে জয়ন্তী পালন করতে পারলে দারুণ হবে, এটাই হবে চূড়ান্ত আতশবাজি (উৎসবের)।’

ক্যাম্প ন্যুর আসনসংখ্যা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫ হাজার করার পরিকল্পনা করছে বার্সেলোনা। কিন্তু মেসি চলে গেলে এই আসনের বেশ বড় এক অংশ ফাঁকাই থেকে যাবে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো চলে যাওয়ার পর রিয়াল মাদ্রিদে ঠিক যেমনটা হয়েছিল। লাপোর্তা চান তাঁকে নির্বাচিত করে বার্সেলনার সদস্যরা সে বিপদ থেকে নিজেদের রক্ষা করুক। তাঁর সময়েই অভিষেক হয়েছিল মেসির। তাঁর সময়েই বার্সার জার্সিতে মেসির অবসর নেওয়া দেখতে চান লাপোর্তা।

কেন মেসি লাপোর্তার সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী হবেন? এ প্রশ্নের উত্তরে দুজনের মধ্যকার ভালো সম্পর্কের কথা জানিয়েছেন সভাপতি পদপ্রার্থী, ‘কারণ, আমি সত্যি কথা বলি। আমিই সবচেয়ে অভিজ্ঞ এবং সংকল্প নিয়ে চলি। এবং ওর চোখে আমিই সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য। সে যখন বলে আমি তাকে যা বলেছি সে প্রতিজ্ঞা পূরণ করেছি, আমার বুক গর্বে ফুলে ওঠে।’

মেসির সঙ্গে এ সম্পর্কই আশাবাদী করে তুলছে লাপোর্তাকে। পিএসজি ও ম্যানচেস্টার সিটির মতো ক্লাবগুলো যত অর্থ নিয়েই হাজির হোক না কেন, লাপোর্তার ধারণা, তিনি ক্লাবের প্রতি মেসির ভালোবাসা ব্যবহার করে ঠিকই ধরে রাখতে পারবেন তাঁকে, ‘এটাই আমাকে একটা সুযোগ দিচ্ছে এবং আমি যদি বার্সেলোনার সভাপতি হতে পারি, তবে এ কারণেই আমি আর্থিক ও খেলার দিক থেকে লিওকে আগ্রহী করে তুলতে পারার মতো সম্ভাব্য সেরা প্রস্তাব দেওয়ার চেষ্টা করব। সে আবার বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে চায় এবং আমাকে নিশ্চিত করতে হবে যে সে বুঝবে এটা সম্ভব।’

নিজের ক্ষমতার ওপর আত্মবিশ্বাসী লাপোর্তা। তাঁর ধারণা, মেসিকে খুশি করার মতো প্রস্তাব যদি কেউ দিতে পারেন, সেটা তিনি। কিন্তু এটাও সত্য শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধু মেসির। ক্লাবের সঙ্গে নতুন চুক্তির আর ছয় মাসও বাকি নেই অধিনায়কের। ফলে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড যদি সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেন চলে যাবেন, তবে ক্লাব বা লাপোর্তা কিছুই করতে পারবেন না।

সে ক্ষেত্রে মেসিকে ছাড়াই পথ চলার কথা জানিয়ে দিয়েছেন লাপোর্তা। ক্লাবের কোচ ও ক্রীড়া পরিচালকদের ওপর তাঁর আস্থা আছে। একদিন না একদিন মেসি তো অবসর নেবেনই। তখন তো তাঁকে ছাড়াই খেলতে হবে বার্সেলোনাকে। সেটা চার বছর আগে হলেও মেনে নিতে বাধ্য লাপোর্তা, ‘মেসির সঙ্গে চুক্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ, আপাতত অগ্রাধিকার পাচ্ছে এটাই। বার্সেলোনায় অনেক দুর্দান্ত খেলোয়াড় খেলেছেন, তাঁদের সময়ের সেরারা। কিন্তু লিও বিশেষ একজন। তিনি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় এবং ইতিহাসেরও সেরা। এ কারণেই তাঁর এত মূল্য। এটা বার্সেলোনার জন্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য যা দরকার, আমরা তা–ই করব। যদি তা না হয়, তাহলে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এবং আগে হোক বা পরে আমাদের সেটা মেনে নিতে হবে। শীর্ষ পর্যায়ে এখনো বহুদিন খেলতে পারবেন তিনি, কিন্তু সবারই খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হয়। কিন্তু বার্সেলোনা তারপরও চলতে থাকে। আমরা এরই মাঝে নতুন খেলোয়াড় এনেছি, যারা বেতন বাড়ানোর কথা বলছে। আমাদের ক্লাবের টেকনিক্যাল সেক্রেটারি ও কোচদের ওপর বিশ্বাস বাড়াতে হবে, তারা যেন ক্লাবে যে খেলোয়াড়েরা এসেছে তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারে।’

About Moniruzzaman Monir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*