Home : খবর : শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন রাজনীতিতে উজ্জল নক্ষত্র

শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন রাজনীতিতে উজ্জল নক্ষত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি এবং স্বাধীকার আন্দোলনের উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি। যিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শুধু স্নেহভাজন ছিলেন না ছিলেন বিশ্বস্থ এক নেতা। বঙ্গবন্ধুর পলিটিক্যাল সেক্রেটারি হিসেবে দেখেছি, মনি ভাই সব সময় বঙ্গবন্ধুকে সৎ পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি ছিলেন খুব সাহসী আর আপসহীন। তিনি যা বিশ্বাস করতেন তাই করতেন। আজ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ।উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন খান নিখিলসহ অসংখ্য নেতা-কর্মী। শেখ ফজলুল হক মনি ১৯৩৯ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা শেখ নূরুল হক ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি। মা শেখ আছিয়া বেগম বঙ্গবন্ধুর বড় বোন। শেখ ফজলুল হক মনি ব্যক্তি জীবনে ২ পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শেখ ফজলুল হক মনি ও তার স্ত্রী বেগম আরজু মনি শাহাদাৎবরণ করেন। ১৯৬২-১৯৬৩ মেয়াদে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা শেখ মনি ষাটের দশকের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি আন্দোলনে ছিলেন সামনের কাতারে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় গঠিত মুজিব বাহিনীর প্রধান, মূল সংগঠক ও নেতাদের একজন ছিলেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন শেখ মনি। অনুষ্ঠানে তোফায়েল আহমেদ আরো বলেন, শেখ মনি ছিলেন অতিরিক্ত সাহসী। তার মধ্যে ভয়-ভীতি বলে কিছু ছিল না। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে থেকে তিনি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তিনি বলেন, আর যেনো কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলাদেশে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে সেজন্য সজাগ থাকতে হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে এটাই হোক আমাদের শপথ যে- যতো বড় শক্তিশালীই হোক না কেনো সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে এদেশে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভাস্কর্য আছে। যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধীতা করছে তারা সেই শক্তি যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সহযোগিতা করেছিল। সরকারকে বলবো এদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্বলতা নয় অবশ্যই এদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। যুবলীগ যারা করছো তাদেরকে বলি মনি ভাই সব সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মেনে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে রাজনীতি করেছেন। ভোগের রাজনীতি করেননি। তোমাদেরও ত্যাগের মনোভাব নিতে হবে। শেখ ফজলুল হক মনি যে আদর্শ নিয়ে জীবন দিয়েছিলেন সেই আদর্শকে আজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সোনার বাংলা গড়তে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই শেখ মনি যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন: আমির হোসেন আমু
স্বাধীনতার পর সোনার বাংলা গড়তে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে শেখ ফজলুল হক মনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু। আজ  বিকালে নগর ভবন প্রাঙ্গণে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, শেখ ফজলুল হক মনি’র ৮১তম জন্ম দিবসের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আমির হোসেন আমু বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শেখ ফজলুল হক মনি সরাসরি রণাঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ঘরে বসে কোনো আন্দোলন সংগ্রাম কিংবা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। স্বাধীনতার পর সোনার বাংলাদেশ গড়তে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই শেখ ফজলুল হক মনি যুবকদের নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি আরো বলেন, আমি ১৯৭৮ সালে জেলখানা থেকে আসার পর বলেছিলাম, জাতি এবং আওয়ামী লীগ হারিয়েছে জাতির পিতাকে, কিন্তু যুবলীগ হারিয়েছে জাতির পিতা ও যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতাকে, তাই যুবলীগের ক্ষতি বেশি হয়েছে। সুতরাং যুবলীগকে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে হবে। বাকশাল গঠনের পর শেখ ফজলুল হক মনি বাকশাল নেতৃবৃন্দকে ঢাকায় ডেকে নিয়ে এসে দেয়া বক্তৃতা সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে প্রশংসিত হয়েছিল। এদিকে শেখ ফজলুল হক মনি’র রাজনীতির হাতেখড়ি বঙ্গবন্ধুর হাতেই হয়েছিল বলে জানিয়েছেন অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। অনুষ্ঠানে শেখ ফজলুল হক মনি’র লেখা গীতারায় এবং দূরবীনে দূরদর্শী শীর্ষক পুনঃপ্রকাশিত ২টি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের পক্ষে ২৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামালউদ্দিন কাবুল, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নার্গিস রহমান বক্তব্য রাখেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরীর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য জান্নাতুল বাকিয়া, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন থানা ও ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি সাধারণ-সম্পাদক এবং করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেখ মনির জন্মবার্ষিকীতে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে যুবলীগের শ্রদ্ধা

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে কেন্দ্রীয় যুবলীগ। আজ সকালে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নেতৃত্বে ধানম-ি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে শহীদ শেখ মনিসহ ১৫ই আগস্ট নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। বনানীতে শহীদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং দুঃস্থদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া আজ ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হল, উত্তরা রাজলক্ষ্মীর সামনে, মিরপুর-১০ গোল চত্বর এবং ভাটারা নতুন বাজার এলাকায় ও ভিক্টোরিয়া পার্ক, যাত্রাবাড়ী গোল চত্বর, আজিমপুর বাস স্ট্যান্ড, কমলাপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করবে যুবলীগ।

শেখ মনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতি গঠনে নিমজ্জিত ছিলেন: ব্যারিস্টার তাপস
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, শেখ ফজলুল হক মনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতি গঠনে নিমজ্জিত ছিলেন। আজ শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি’র ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে তার কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। শেখ ফজলুল হক মনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন উল্লেখ করে মেয়র বলেন, স্বাধীকার আন্দোলন, ৬ দফা, মুক্তি সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। জাতির পিতার নির্দেশে মুজিব বাহিনী গঠন করে তিনি পূর্বাঞ্চল কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পরে জাতি গঠনে তরুণ সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন বলেই জাতির পিতার নির্দেশে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ গঠন করেন। ব্যারিস্টার তাপস বলেন, অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে যুবলীগ শেখ ফজলুল হক মনি’র সুযোগ্য সন্তান শেখ ফজলে শামস পরশের নেতৃত্বে একটা মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। যুব সমাজ যখন সেই পর্যায়ে যেতে পারবে তখনই শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি’র স্বপ্ন পূরণ হবে। ডিএসসিসি মেয়র বলেন, শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির শূন্যতা আমরা সব সময় অনুভব করবো। তিনি নিজে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, এবং মুজিব বাহিনী কমান্ড করেছিলেন। একইসঙ্গে স্বাধীনতার পর জাতি গঠনে তিনি তার কলমকে কাজে লাগিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উজ্জীবিত করার জন্য, তরুণ সমাজকে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে নিয়ে আসার জন্য তিনি যেমনি তার সাংগঠনিক দক্ষতা দেখিয়েছেন তেমনি তার কলমের মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেতনায় নিমজ্জিত ছিলেন। সেই সংগ্রাম কিন্তু আমাদের এখনো শেষ হয়নি। অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংগ্রাম আমাদের শেষ হয়ে যায়নি। সুতরাং শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আরো অনেক পথ এগিয়ে যেতে পারতো। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে সাবেক আইনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মতিন খসরু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. বদরুল আমিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার ডা. শরীফ আহমেদ, ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনিরুল ইসলাম আকন্দ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রেজাউর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামানসহ বিভিন্ন বিভাগের দপ্তর প্রধানগণ এবং ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

About Moniruzzaman Monir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*