Home : প্রচ্ছদ : সরকারের নজরদারীতে আঃ লীগ

সরকারের নজরদারীতে আঃ লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
মহান বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। স্বাধিনতার সুফল বাংলার ঘরে ঘরে পৌছে দেওয়ার লক্ষে স্বাধিনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের লক্ষে দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা নিরালস ভাবে রাত দিন কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার ধারাবাহিকতায় সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলকে শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ করার দিকে নজর রাখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকের স্থবিরতা কাটিয়ে দলটি সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। সম্মেলন হয়ে যাওয়া কয়েকটি জেলা-মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা চার সহযোগী এবং একটি ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটিও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব জায়গায় অনৈক্য এবং পদধারীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেসব জায়গার কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের দল। এ দল সব সময় দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কথা বলে। মহান স্বাধীনতাসহ জাতিগত সব অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরেই এসেছে। তাই আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী থাকতে হবে, জনগণের মনের ভাষা বুঝতে হবে। সে লক্ষ্যেই দলকে আরও শক্তিশালী, গণমুখী এবং জনপ্রিয় করার জন্য পুনর্গঠনমূলক নানা কর্মসূচি চলছে।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রাণ হচ্ছে দলটির তৃণমূল। তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী করার জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জনগণের শক্তিই এদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং অখণ্ডতা রক্ষা করে। আওয়ামী লীগ জনগণের আস্থা বাড়াতে আগামী নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে জনসম্পৃক্ত বাড়িয়ে সেই পথ নির্বিঘ্ন করতে চায়।’
উল্লেখ্য, সম্মেলনের প্রায় এক বছর পর গত নভেম্বরে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, কৃষক লীগ এবং শ্রমিক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, রাজশাহী জেলা ও মহানগর, সিলেট জেলা ও মহানগর, কক্সবাজার এবং বগুড়া জেলার। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে যশোরসহ কমপক্ষে আরও ২০টি জেলার কমিটি। এছাড়া সাভার ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় যথাক্রমে পূূর্ণাঙ্গ ও আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে সম্প্রতি।


এদিকে অভ্যন্তরীণ বিরোধের অভিযোগে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে। আবার দলকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করতে না পারার অদক্ষতার কারণে পদ থেকে সরানো হয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লতিফ বিশ্বাস এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাবিবে মিল্লাতকে।
আওয়ামী লীগের জেলা এবং বিভাগে কমিটি গঠন এবং যাচাই-বাচাই করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এ বছরে মার্চে অনুষ্ঠিত দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে প্রতিটি বিভাগের জন্য একটি করে যাচাই-বাছাই সাব কমিটি করা হয়। এরপর সম্মেলন হয়েছে, কিন্তু কমিটি হয়নি কিংবা আংশিক হয়েছে, এমন শাখাগুলোকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ— ‘বিতর্কিত, অনুপ্রেবেশকারীদের কমিটিতে রাখা যাবে না’, এ কথা তৃণমূল নেতাদের জানিয়ে দেন কেন্দ্রের নেতারা। ওই বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ এ বিষয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন যেন কোনও বিতর্কিত লোক কমিটিতে না আসতে পারে। কোনও অপরাধী, কোনও ধরনের অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত কেউ যেন কোনও কমিটিতে প্রবেশ করতে না পারে। দীর্ঘ দিন যাবত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত, ত্যাগী, দুর্দিনে দলের জন্য কাজ করাদের যাতে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সেই নির্দেশনা দিয়েছেন নেত্রী।’ বিতর্কিতদের বাদ দিতে সব বিভাগে একটি করে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান,সে অনুযায়ী কাজ চলছে এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি দলসংশ্লিষ্ট আরও একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। তা হলো, কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে আর কখনোই দলের মনোনয়ন না দেওয়া। সম্প্রতি নেত্রকোনাসহ তিনটি জেলায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার পরও তারা অতীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন, এমন তথ্য জানার পর তাদের মনোনয়ন বাতিল করে অন্যদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দলের নেতাকর্মী যারা নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছেন, তাদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না।’ দলীয় নেতারা কোথায়ও কোন অন্যায় ও অনিময় করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে হাইকমান্ডের।

About Moniruzzaman Monir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*