বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন

এলজিইডির দুর্নীতির বরপুত্র ॥ প্রকৌশলী আবু মোহাম্মদ শাহারিয়ার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

সাফায়েত হোসেন / ১৮৪ Time View
Update : বুধবার, ৩ জুলাই, ২০২৪, ৯:২৩ অপরাহ্ন

এলজিইডির দুর্নীতির বরপুত্র ॥ প্রকৌশলী আবু মোহাম্মদ শাহারিয়ার এল.জি. ই.ডির আমার গ্রাম আমার শহর প্রকল্পের ডেপুটি টিম লিডার আবু মোহাম্মদ শাহারিয়া ও তার স্ত্রী উম্মে তাসলিমা আক্তার অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ করে ঢাকাসহ দেশব্যাপী সম্পদের পাহাড় গড়েছেন মর্মে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকে লিখিত অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে প্রকাশ, এলজিইডির সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও বর্তমান এল.জি.ই.ডির আমার গ্রাম আমার শহর প্রকল্পের ডেপুটি টিম লিডার আবু মোহাম্মদ শাহারিয়ার বর্তমানে আগারগাঁও, শেরে বাংলানগর স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এল.জি.ই.ডি) ভবনের প্রধান কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।
তিনি ইতিপূর্বে এল.জি.ইডি প্রকল্প পরিচালক থাকাকালীন ও সারাদেশে প্রাইমারি স্কুল ভবনসমূহ নির্মাণের দায়িত্বে থাকাকালীন বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ হরিলুটের অভিযোগ রয়েছে। তিনি ঢাকায় যে বাসায় বর্তমানে বসবাস করেন, সেখানে সেই বাড়ীর ১০টি ফ্ল্যাট তার স্ত্রীর নামে রয়েছে। তার স্ত্রী একজন গৃহিণী হওয়া সত্ত্¡েও অবৈধভাবে স্বামীর অবৈধভাবে অর্জিত অর্থে ১০টি ফ্ল্যাটের মালিক বনে গেছেন। আরো জানা যায়, ঢাকা শহরে তিনি ২০টি ফ্ল্যাট, ১০টি বাড়ি করেছেন। এর বাইরে শত বিঘা পাহাড়ি জমি ক্রয় করেছেন।
তিনি বর্তমানে এল.জি. ই.ডির অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও পুনরায় এল.জি.ই.ডির আমার ও আমার শহর প্রকল্পের ডেপুটি টিম লিডার হিসেবে চাকরি করেন দুই লাখ টাকা মাসিক বেতনে। আড়ালে-আবডালে তার সহকর্মীরা বলাবলি করছেন, সরকারি অর্থ পুনরায় হরিলুটের জন্য তিনি এল.জি.ই.ডির প্রকল্পের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
একজন শীর্ষ দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত একজন কর্মকর্তা কীভাবে পুনরায় এল.জি.ই.ডির অর্থ আত্মসাৎ করার সুযোগ পেয়েছেন, নিরপেক্ষভাবে সুষ্ঠু তদন্ত হলে তার কাড়ি কাড়ি অবৈধ সম্পদের পিলে চমকানো হিসাব বেরিয়ে আসবে।
চাউর আছে, তার স্ত্রী একজন গৃহিণী হয়েও বর্তমানে প্রায় শতকোটি টাকার মালিক।
তার ও তার পরিবারের সদস্যদের অনৈতিক সম্পদের কিঞ্চিত খতিয়ান জনস্বার্থে তুলে ধরা হলো-
১. বাসা নং- সারা সিমরান, প্লট নং-১৭/১৮, ব্লক-সি, রোড নং-১, ফ্ল্যাট ৩/৭, কাদিরাবাদ হাউজিং কাটারসুর মোহাম্মদপুর ঢাকা, উক্ত বাসায় তার স্ত্রীর নামে ১০টি ফ্ল্যাট রয়েছে, ফ্ল্যাট ১০টির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা।
২. মোহাম্মদপুর বসতি হাউজিং বাসা নং-১০, রোড-০৫, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। তার স্ত্রী নামে ৮ টি ফ্ল্যাট রয়েছে, ফ্ল্যাট ৮টির বর্তমান মূল্য ৮ কোটি টাকা।
৩. মোহাম্মদপুর কাটাসুর তার নিজ নামে ও তার স্ত্রীর নামে একটি তিনতলা মার্কেট রয়েছে। উক্ত মার্কেটের বতমান বাজার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা।
৪. বাসা-১১, রোড-০৪, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা ৫ তলায় তার স্ত্রীর নামে ২টি ২৬০০ ফিট ফ্ল্যাট রয়েছে, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
৫. বাড়ী নং-৬৬, রোড নং-৭, বনানী, ব্লক-এফ, ঢাকা। উক্ত বাসার ৫ম তলায় আর নিজ নামে ১টি ৫০০০ ফিট ফ্ল্যাট রয়েছে, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।
৬. রংপুর জেলায় মুন্সী পাড়ায় বাসা-৭৮, রোড-০২, তার স্ত্রীর নামে একটি ৬ষ্ঠ তলা আলিশান বাড়ি রয়েছে, যার বতমান বাজার মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।
৭. উত্তরার ১০ নং সেক্টরে বাসা নং-৬৮, রোড-১৩, সেক্টর নং-১৩, থানা-উত্তরা পশ্চিম ঢাকা। বাসাটির ১০ তলা ভবন তার স্ত্রীর নামের রয়েছে, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা।
৮. বাসা-১৫, রোড-০৬, আদাবর, শেখেরটেক, থানা-আদাবর, ঢাকা। উক্ত বাড়িটি তার স্ত্রী নামে ৮ম তলা ভবন নির্মাণ করেছেন কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে।
৯. আমেরিকায় তার স্ত্রীর নামে ও তার মেয়ের নামে ৩টি বাড়ী ও ৩টি গাড়ী রয়েছে।
১০. নীলফামারী জেলা শহরে তার স্ত্রীর নামে ৬ষ্ঠ তলা একটি আলিশান বাড়ী রয়েছে, উক্ত বাড়ীর বার্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।
১১. নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে তিনি প্রায় ৯০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন।
এর বাইরে সৈদয়পুরে তার নিজস্ব ১টি ফার্মেসী, দুটি গুদামঘর, দুটি মার্কেট রয়েছে। তিনি বান্দরবান
জেলায় ৩০ বিঘা পাহাড়ের জমি ক্রয় করেছেন এবং জোরপূর্বক ৩০ বিঘা জমি দখল করেছেন। এছাড়া তার পরিবারের প্রত্যেক সদস্যদের নামে শত শত কোটি টাকা ও অবৈধ সম্পদ রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করলে আরো অঢেল সম্পদের তথ্য পাওয়া যাবে। বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category