বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৫:২৫ অপরাহ্ন

এলজিইডি যেন রাহুর অভয়ারন্য দুদকের তদন্তের জালে আরেক মহরতি

কামরুজ্জামান মিল্টন / ১৮৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০২৪, ৩:৩৬ অপরাহ্ন

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র ঘাটে ঘাটে অনিয়ম-দুর্নীতির খবর যেমন-নতুন কিছু নয়, তেমনি-ঝাঁক ধরা ওই অনিয়ম-দুর্নীতির কুশিলবদের কু-নীতির দুর্গন্ধটাও সবার কাছে বেশ গতানুগতিক।
তবে চলমান রাঘব বোয়াল শ্রেনীর দুর্নীতিবাজির ঝড়ো বাতাসে ওই দুর্নীতি আশ্রম এলজিইডি’র আরেক মহরতি ও প্রকল্প পরিচালক আবু মনজুর মোহাম্মদ ছাদেকের মুখোশ খুলেছে। তার লুটের মাল ভান্ডারেও পড়ছে-খোদ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)’র কু-নজর । আর এ খন্ড প্রতিবেদনটিতে থাকছে-ওই দুর্নীতির মহরতি ছাদেকের লুটপাট করে আড়ালে-আবডালে গচ্ছিত কাড়ি কাড়ি সম্পত্তির লম্বা ফিরিস্তির এপিঠ-ওপিঠ। আরো থাকছে-ওই কুনজর-সুনজর নয়, দুদকের পিছু নেয়ার রকমফেরটা। আসলে এলজিইডি’র প্রকল্প পরিচালক মনজুর ছাদেক ধুরন্দর হওয়ার এ যাবৎ লাগাম ছাড়া অনিয়ম-দুর্নীতিতে সক্রিয় থাকলেও ছিলেন কৌশলে ধরাছোয়ার বাইরে। সরকারি টাকা লুটপাট করে নিজে ফুলে-ফেপে একাকার হয়েছেন। চলেছেন-বীরদর্পে মহরতির ছদ্মাবরনে। আর “আমার গ্রাম,আমার শহর” প্রকল্পের পরিচালক বনে হয়ে ওঠেন আরো বেশামাল। নিশ্চিন্তে ও নির্বিঘ্নে নীতি-নৈতিকতা ঝেড়ে ফেলে চালান-ওই প্রকল্পের অর্থের হরিলুট। চলতি সময়ের আলোচিত দূর্নীতিবাজদের যে কারো আনুকরনে তিনিও যেন মেতে উঠেছিলেন সম্পদের চুড়ায় বসে স্বর্গ সুখ ভোগের নেশায়। আর তিনি করেছেনও তাই। ওই “আমার গ্রাম,আমার শহর” প্রকল্পের হোতাগিরির শুরু থকে শেষ পর্যন্ত তিনি অনিয়ম আর অনীতির (দুর্নীতি) মাধ্যমে একদিকে যেমন-নিজে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক সেজেছেন,অন্যদিকে তেমনি-সরকারের অর্জন উচ্ছন্যে দিয়েছেন। আর এসব নিয়ে তার বিরুদ্ধের এ যাবতের সব অভিযোগের পসরা বিচক্ষনতার সাথে ধামাচাপা রেখে রয়েছেন বহাল তবিয়্যতে। কিন্তু সদ্য ওই সব অভিযোগের পসরা দমকা বাতাসে উলোট-পাল্ট হতে শুরু করেছে। সোজা কথায়-মনজুর সাদেক নামের ওই প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধের সব অভিযোগ দুদক তার তফশিলীয় তালিকাভুক্ত করে ফেলেছে। এমন কি-দ্রুত অনুসন্ধানের প্রক্রিয়াও সম্পন্নের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে ‘দুদক’ সূত্র। আর মনজুর সাদেকের ওই “আমার গ্রাম,আমার শহর” প্রকল্পের টাকা হেরফের করে গোপনে তার নিজের মাল ভান্ডারে যুক্তের তালিকায় রয়েছে- ৯ নম্বর সেক্টরে ১০কাঠা জমিতে শত কোটি টাকা দামের বহুতল বাড়ি। মোহাম্মদপুরের কাদিরাবাদ হাউজিংয়ে তার স্ত্রীর নামে রয়েছেÑঅর্ধশত কোটি টাকা দামের ছয়তলা ভবন। পল্লবীর ডিওএইচএস’র ১১/৩/১ নম্বর এপার্টমেন্টের পঞ্চম তলায় আছে-৩২০০বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট। চট্টগ্রামের কলেজ পাড়ায় আছে-১৫ কাঠা জমির উপর কয়েক কোটি টাকা দামের ছয়তলা বাড়ি, যেটি তার স্ত্রীর নামে। আরো রয়েছে-চট্টগ্রামের এয়ারপোর্ট এলাকার ডি/৯/৩ নম্বর রোডর ২০কাঠা জমির উপর নির্মিত গগনচুম্বি দালানটি। যা ৩০ কোটি টাকায় কেনা হয়েছে। আর মোহাম্মদপুরের বসিলায় মাত্র ১০০ শতাংশ জমি পাঁচ কোটি ৩০ লাখ টাকায় কিনেছেন তার স্ত্রীর নামে। এছাড়া হাতের নাগালের অভিযোগের এ ছোট-খাট তালিকাটির টাকার স্তুপময় সম্পদের বাইরে রয়েছে-লন্ডন,আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে বাড়ি। তবে এলজিইডি’র প্রকল্প পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ ছাদেকের কাছে টেলিফোনে এব্যাপারে জানাতে চাইলে,তিনি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আর তার বিরুদ্ধে প্রকল্পের টাকা লুটপাটের যে অভিযোগ তুলা হয়েছে,তার কোন প্রমান নাই বলেও জানান। তবে তার অর্জিত জ্ঞাত-অজ্ঞাত ওই সম্পদের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোন কথা বলেননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category