বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৬:২৮ অপরাহ্ন

দুর্নীতিবাজের নিরাপদ আস্তানা গণপূর্তের এক প্রকৌশলীর গায়েবী সম্পদের টিলা

কামরুজ্জামান মিল্টন / ১৬২ Time View
Update : রবিবার, ৩০ জুন, ২০২৪, ৯:০১ অপরাহ্ন

প্রায় সর্বত্রই দুর্নীতিবাজ,ঘুষবাজ আর লুটেরা শ্রেনীর দুর্বৃত্তদের নিয়ে কানাঘুষা আর আলোচনা-সমালোচনা। সম্প্রতি যেন নানা কেসেমের অগনিত দুর্বৃত্তদের গোপন স্বর্গ কানায় কানায় ভরে উঠেছে। তাই তারা যেন উপচে জনসম্মুখে এসে পড়তে শুরু করেছে। চাউর হতে শুরু করেছে-তাদের সব দুর্নীতি আর লুটপাটসহ নানা অপকর্মের খবর। তারই রেশ ধরে সামনে এসেছে-ওই গোপন স্বর্গের আরেক দুর্বৃত্ত। এসেছে-তার দায়িত্বের সুযোগে দুর্বৃত্তায়িত আয়েশী জীবনের রসদের ফিরিস্তি। তার নাম আনোয়ার হোসেন। তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঢাকা বিভাগ-১’র ই/এম বিভাগ-১-এ কর্মরত। প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন কর্তব্যের নামে নিরবে নিজের বিলাষী জীবনের আয়েশে কাড়ি কাড়ি সম্পত্তি গুছিয়ে এ যাবৎ ধরাছোয়ার বাইরেই ছিলেন। কিন্তু সদ্য সামনে এসে শুধু আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই থেমে নেই। অভিযোগ পর্যন্তও গড়িয়েছে। নানা কারণে, নানান লোকে তার অর্জিত ওই সম্পদের উৎস ঘিরে বিভিন্ন সংস্থার সাথে সাথে খোদ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদকে)ও করেছে অভিযোগ। ওই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের সুযোগে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ টাকা কামানোর সুযোগটা হাত ছাড়া করেননি প্রকৌশলী আনোয়ার।“ঝড়ে আম কুড়ানোর মত” সুযোগত গড়েছেন,সম্পদের ঢিবি-টিলা। আর তার উৎস ও বৈধতা নিয়েই যত প্রশ্ন। তবে তিনি শুরু থেকে এ অবি শুধু নামে-বেনামে যে সম্পদের টিলা জুড়িয়েছেন,তার অসমঞ্জস্যতাই তাকে রীতিমত তোপে পড়া অন্যদের কাতারে দাড়ানোর আশঙ্কা তার নিকটজনদের।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের প্রদর্শিত বা জ্ঞাত আয়ে অর্জিত সম্পদের মধ্যে রয়েছে-দিনাজপুরের ফুলবাড়িয়ায় ৫ শতক অকৃষি জমি,যার মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। গাজীপুর সদরে চার শতকের বেশী জমির মূল্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ও সোয়া চার শতাংশের প্লটের মূল্য প্রায় সাড় চার লাখ টাকা। আর বড় কাঠালদিয়ার তিন কাঠা জমির মূল্য প্রায় তের লাখ টাকা। অন্যদিকে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের সোয়া দুই শতাংশ জমির মূল্য ১১লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া দিনাজপুরের উত্তর সালেন্দরে ৫ একর কৃষি জমি, যার মূল্য ৪ লাখ টাকা ও অন্য পাঁচ একরের মূল্য সাড়ে তিন লাখ টাকা। অথচ তার জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদের ফিরিস্তি রীতিমত হতবাক করার মত। আর তাতে সৃষ্টি লোক ভেদে বিতর্কের হের ফের আকাশ-পাতাল। প্রদর্শিত ও জ্ঞাত আয়ের বাইরের সম্পদের অভিযোগে যা উঠে এসেছে, তা হয়তো সংশ্লিস্টদের সুষ্ঠ তদন্তে বেরিয়ে আসবে। আর নমুনা হলো-মোহম্মদপুরে ২৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। উত্তরার প্লটের মূল্য তিন কোটি টাকা। যাত্রাবাড়িতে কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট। বসিলার কাটাশুরে ১০ কাঠার প্লট, যার মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। দিনাজপুর সদরে ২৫০ শতাংশ জমির মূল্য কয়েক কোটি টাকা। দিনাজপুর সদরের ৬ তলা বাড়ির মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা। এছাড়া আদাবরের ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকায় কেনা প্লটে বহুতল ভবন নির্মানে তৎপর রয়েছেন। আর এর বাইরেও রয়েছে বিপুল সম্পদ। যদি তাই হয়, তাহলে প্রকৌশলী আনোয়ার এ যাবৎ কর্তব্যের নামে বৈধ-অবৈধতার কথা ভুলে,শুধু নিজের আখের গুছিয়েছেন। অন্যথায় তিনি গায়েবি বা দৈব কোন শক্তির বলে ছোট-খাট টিলাকৃতির সম্পদের এ জুড়েছেন। যাক,সেব সব হিসেব মেলানো তফশিলভুক্তদের ইখতিয়ার। তবে এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের কাছে টেলিফোনে জানতে চাইলে, তিনি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেস্টা করেন। তবে একপর্যায়ে তার অর্জিত সম্পদের হিসাব বিবরনীর আংশিক সত্যতা স্বীকারও করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category