Home : বাংলাদেশ : অপরাধ : বসুন্দিয়া মহুয়া সার্জিক্যাল ক্লিনিকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

বসুন্দিয়া মহুয়া সার্জিক্যাল ক্লিনিকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

বসুন্দিয়া প্রতিনিধি : যশোর জেলার সদর উপজেলার বসুন্দিয়ায় অবস্থিত মহুয়া সার্জিক্যাল ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী কথিত ডাঃ খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যার আলোচনা সমালোচনা স্থানীয় সচেতন মহলের মুখে মুখে বনে গেছে। তার অপকর্মের সচিত্র প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে তার অপকর্ম বারবার ধামাচাপা হয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসী বলেছেন। তিনি একজন পেশায় পল্লি চিকিৎসক হয়ে তার নামের পাশে লিখছেন ডাঃ যা এলাকার মানুষের মাঝে কৌতুহল দেখা দিয়েছে তিনি ডাক্তারী না পড়েই ডাঃ বনে গেছে।
সম্প্রতি সামাজিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে খলিলুর রহমান পরিচালিত মহুয়া সার্জিক্যাল ক্লিনিকের বর্তমান ও অতীতের বিভিন্ন কপকমের্র কাহিনী এলাকার মুখে মুখে রটে গেছে ।
গত ২৬ জুন বৃহস্পতিবার রাতে মহুয়া সার্জিক্যাল ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন একজন দরিদ্র পরিবারের প্রসূতি মায়ের জরুরী রক্তের প্রয়োজনে রক্তদাতা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পাশে আছি আমরা’র নেতৃবৃন্দের সাথে রক্তের ক্রস-ম্যাচিং না করায় ক্লিনিকের পরিচালক খলিলুর রহমানের সাথে বাকবিতন্ডা ও বিরোধ সৃষ্টি হয়।
ঘটনার বিবরণে রক্তদাতা জানান, ঐদিন রাত সাড়ে ১১টায় একজন গর্ভবতী রোগীর জন্য ‘এ’ পজেটিভ রক্তের চাহিদা জানিয়ে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘পাশে আছি আমরা’র হেল্পলাইনে ফোন করা হয়। করোনাকালীন এই দুর্যোগের মধ্যেও সংগঠনের মোট ৩জন স্বেচ্ছাসেবী ঐ ক্লিনিকে উপস্থিত হলে খলিলুর রহমান তাদের কাছ থেকে এক ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে কোন রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই রোগীর শরীরে সরবরাহ করার উদ্যোগ নেন। এছাড়া খলিলুর রহমান স্বেচ্ছাসেবীর কাছ থেকে ‘এ’ পজিটিভ রক্ত সংগ্রহ করে রেজিস্টারভূক্ত করার সময় রক্তের গ্রুপের স্থানে ‘ও’ পজিটিভ লিখে রাখেন। স্বেচ্ছাসেবীরা খলিলুর রহমানকে প্রশ্ন করেন, “আমরা আপনাকে ‘এ’ পজিটিভ গ্রুপের রক্ত দিয়েছি, কিন্তু আপনি আপনার রেজিস্টারে ‘ও’ পজিটিভ কেন লিখলেন? ভিন্ন গ্রুপের রক্ত রোগীর শরীরে পুশ করা হলে রোগীর প্রাণনাশের শস্কা রয়েছে। এমনকি আপনি আমাদের রক্ত পরীক্ষা এবং ক্রস-ম্যাচিং না করেই কীভাবে রোগির শরীরে পুশ করতে উদ্যোগী হলে কি করে ?” এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে একপর্যায়ে খলিলুর রহমান তাদেরকে সন্তোষজনক কোন উত্তর না দিয়ে তাদের সাথে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ার ও অভিযোগ রয়েছে।
সুত্র আরও জানায়, মহুয়া সার্জিক্যাল ক্লিনিকে যে সকল রক্তদাতা ইতিপূর্বে রক্ত দিয়েছেন তাদের অনেকেই রক্তের শিরায় বেশ কিছুদিন যাবৎ যন্ত্রনায় ভুগেছেন।
এব্যাপারে খলিলুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি খুবই দক্ষতার সাথে বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে তার নিজের ভুল স্বীকার করেন।
এত অনিয়মের পরেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কিভাবে চালাছে এলাকাবাসী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

About Moniruzzaman Monir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*