Home : খবর : ভারি বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে রাজধানীবাসী

ভারি বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে রাজধানীবাসী

হেলাল উদ্দিন : বৃষ্টিতে অথৈ পানি। অঝোর বর্ষণে রাস্তা-মহল্লা পানিতে ডুবে খারাপ অবস্থা তৈরি হয় রাজধানী ঢাকার। টানা দু’দিনের বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব জলাবদ্ধতায় ভাসছে ময়লা-আবর্জনা। ঢাকার প্রধান প্রধান সড়কের কোথাও কোথাও কোমর পর্যন্ত পানি জমতে দেখা গেছে। কর্মমুখী মানুষ ময়লা-আবর্জনাপূর্ণ পানি মাড়িয়ে ছুটেছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন কর্মমুখী মানুষ। গতকাল দিনভর বৃষ্টি হওয়ায় অনেক এলাকায় যানবাহন চলাচলও ছিল সীমিত।রাজধানীর কাওরান বাজার, দয়াগঞ্জ, পুরাতন ঢাকার বকশীবাজার, গ্রিনরোড, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, রামপুরা, বাড্ডা, শান্তিনগর, মালিবাগ, নয়াপল্টন, পুরান ঢাকার বঙ্গবাজার, সিদ্দিকবাজার মোড়, নাজিরা বাজার, নাজিম উদ্দিন রোড, ধানমণ্ডি ২৭, সায়দাবাদে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এসব স্থানে পানি জমে থাকায় দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। জলাবদ্ধতার কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। এতে জনদুর্ভোগ চরমে ওঠে। সরজমিন দেখা গেছে, সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় অনেক গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। জলাবদ্ধতার মধ্যেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চালক ও যাত্রীরা। অনেককেই হাঁটু পর্যন্ত বৃষ্টির পানিতে ভিজে অফিস কিংবা কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে। বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও ফুটপাথের ব্যবসায়ীরা। অফিসগামী মানুষ নির্ধারিত স্থানে যাওয়ার জন্য রিকশা ঠিক করতে গেলে বৃষ্টি ও পানির সুযোগ নিয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া চাইছেন চালকরা। ভাড়া নিয়ে সিএনজি ও রিকশা চালকদের সঙ্গে যাত্রীদের বাকবিতণ্ডা হতে দেখা গেছে। সাতরাস্তা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, নাবিস্কো থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত পুরো এলাকায় পানি জমেছে। মানুষ চলাচল করতে পারছে না। তিনি পানির কারণে আধাঘণ্টা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাসে উঠতে পারেননি। তাই অফিসে যেতে অনেক দেরি হয়েছে। জলাবদ্ধতা থেকে আমাদের যেন মুক্তি নেই। সিটি করপোরেশন এসব দেখেও দেখছে না। পথচারীরা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে বিপাকে পড়েছেন কাজে বের হওয়া মানুষ। রাস্তাঘাটে পানি জমায় বাসা থেকে বের হতে বেগ পেতে হচ্ছে। রাস্তায় বেরিয়েও ঠিকভাবে মিলছে না যানবাহন। এদিকে কাওরান বাজার, গ্রিনরোড, দয়াগঞ্জসহ বেশকিছু এলাকায় যানবাহনের সাইলেঞ্চারে পানি ঢুকে বিকল হয়ে গেছে। কোমর পানিতে ভ্যান ও রিকশায় করে পার হচ্ছেন পথচারীরা। অনেকের মোটরসাইকেল জলাবদ্ধতার মধ্যে পড়ে বিকল হয়ে গেছে। পানিতে ভেসে যাচ্ছে ডাস্টবিনের ময়লা। কাওরান বাজারের কাঁচাবাজার সড়কে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাঁচা পণ্য ও সবজি পানিতে ভেসে গেছে। এদিকে রাস্তায় জলাবদ্ধতা ও মুষলধারে বৃষ্টিতে সংকট দেখা দেয় গণপরিবহনের। ফলে দিনভর সীমাহীন বিড়ম্বনা পোহাতে হয় পথচারী ও অফিসগামীদের।

রাজধানীর তেজকুনিপাড়ার বাসিন্দা মামুন জানান, কাওরান বাজার এলাকায় প্রতি বছরই পানি জমে। প্রধান সড়কেও পানি জমে থাকায় প্রায়ই দেখি যানবাহন বিকল হতে। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করলে এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না বলে তারা জানান। আবির হোসেন জয় নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, সকাল ১০টায় অফিসের পথে বের হয়েছি। গ্রিনরোডে এসে আটকে ছিলাম প্রায় ২ ঘণ্টা। হাঁটু পানির মধ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আফতাব উদ্দিন সোনালী খবরকে বলেন, রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৭ মি.মি. বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী তিনদিন মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে টানা ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে আরো জানা যায়, সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীতে ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে কাওরান বাজার, মিরপুর, মতিঝিল, আরামবাগ, মিরপুর রোড, ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর রোড, নবোদয় হাউজিং, পুরাতন ঢাকার বিভিন্ন এলাকা, মগবাজার, গ্রিনরোড, বিমানবন্দর সড়কসহ বেশকিছু এলাকা তলিয়ে যায়। গতকাল রাজধানীতে ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আগামী তিনদিন সারা দেশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে এবং দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারি বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের সকল সমুদ্র বন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চল সমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিমি বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

About Moniruzzaman Monir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*