বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৫:৫১ অপরাহ্ন

সাগরে ইলিশ ধরা নিষেধ, এটা দেখার দায়িত্ব কার?

খলিলুর রহমান,চট্রগ্রাম প্রতিনিধি / ৫৫ Time View
Update : সোমবার, ৮ জুলাই, ২০২৪, ৫:৪৬ অপরাহ্ন

পর্ব ২

সামুদ্রিক মৎস্য আইন ২০২০ উপধারা (২) মোতাবেক সামুদ্রিক মাছের সুষ্ঠু প্রজনন ও টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই মোট ৬৫ দিন সামুদ্রিক মাছ ও ক্রাশটাসিয়ান্স আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। স্থানীয় মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসীনতার কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে সমুদ্রে ইলিশ ধরায় সরকারের দেয়া নিষেধাজ্ঞা। চট্রগ্রাম, পাহাড়তলী, কার্ট্রলী /রানী রাসমনি মৎস্য আড়তে একেকটি ট্রলারে করে ৩০ থেকে ৫০ মণ ইলিশ আসছে, “কেলন দাশ মাঝি”এর নেতৃত্বে। মাছ ঘাটগুলোতে মৎস্য বিভাগের নিয়মিত কোন নজরদারি না থাকায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অধিকাংশ ট্রলার দিয়েই সমুদ্রে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা অব্যাহত রয়েছে। সাগর থেকে ধরে আনা এসব মাছ ঘাটেই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে হাঁক-ডাক দিয়ে। ট্রাকে করে চালান করা হচ্ছে ঢাকা, বরিশাল, মাদারীপুর,খুলনা সহ দেশের বিভিন্ন মোকামে। তবে জেলেদের সমুদ্রে যাওয়া বন্ধ করতে না পারলেও, তাদের আইনের আওতায় আনার গতানুগতিক আশ্বাসের মধ্যেই আটকে আছে মৎস্য বিভাগ।
সমুদ্রে মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন বৃদ্ধি, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য প্রতিবছরের মতো
এবারও ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে।

এসময় সমুদ্রে কোন জাল ফেলা যাবে না। ধরা যাবে না ৪৭৫ প্রজাতির মাছ, চিংড়ি, হাঙ্গর, লবস্টার, কাঁকড়াসহ সাগরের কিছুই।
বর্তমানে উক্ত নিষেধাজ্ঞা থাকার মধ্যেও স্হানীয় পুলিশ প্রশাসন,মৎস্য অধিদপ্তর, কোস্ট গার্ডদের নাকের ঢগা দিয়ে, পূর্ব জোন সামূদ্রিক মৎস্য একাডেম, মৎস্য বন্দর,চট্রগ্রামের কয়েকটি ঝাটকা ইলিশ মাছ ধরার ঘাট যেমন, পাহাড়তলী থানাধীন কার্ট্রলী/ রাশমনি জেলে পাড়া ইলিশ ধরার নেতৃত্বে রয়েছেন “কেলন দাশ মাঝি, পতেঙ্গা থানাধীন মুসলিমাবাদ জেলে পাড়া ঘাট হারুনের নেতৃত্বে চলছে ইলিশ ধরা, ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী জেলে পাড়া দুলাল এর নেতৃত্বে, আরো বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ঝাটকা নিয়মিত আহরণ করে আসিতেছে বিশাল একটি অসাধু চক্র।

এই নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রয়েছে, চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ এঁর নেতৃত্বে সহযোগিতায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পূর্ব জোন (চট্রগ্রাম),জোনাল কমান্ডার পূর্ব জোন বাংলাদেশ কোষ্ট গার্ড সামুদ্রিক মৎস্য একাডেমী,মৎস্য বন্দর,চটগ্রাম এর সদস্যরা ও বাংলাদেশ পুলিশ এর স্হানীয়, পাহাড় তলী, ইপিজেড, পতেঙ্গা মডেল থানা পুলিশ।
এ বিষয জোনাল কমান্ডার পূর্বজন বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, সামুদ্রিক মৎস্য একাডেমি, মৎস্য বন্দর চট্টগ্রাম, জি আউটপোষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
আমরা আমাদের সিনিয়র কর্মকর্তার কাছে জানিয়েছি এবং উক্ত গার্ড গুলোতে আমাদের কোষ্ট গার্ডের পেট্রোলিন টিম রয়েছে, তারা ব্যাবস্থা নিবেন,কোস্ট গার্ডের অন্য এক সিনিয়র কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জেলেরা আসলে অনেক বেপরোয়া ওরা ওদের নিযুক্ত নিজেদের কিছু সোর্স ভিবিন্ন পয়েন্টে দার করিয়ে একটা সিস্টেমের মাধ্যমে আসলে ওদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে আমাদের অফিসে এ অভিযান পরিচালনা করার জন্য আমরা মাত্র দুই জন লোক রয়েছি তাই আমাদের সবসময় প্রশাসন কোস্টগার্ড সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালনা করতে হয়, এবং গতকালকেও আমরা একটি পাহাড়তলী থানা দিন উত্তর কাট্টলী রাসমণি ঘাটে অভিযান পরিচালনা করেছি, এর আগের দিন ইপিজেড থানা দিন আকমল আলী ঘাটেও অভিযান পরিচালনা করেছি , প্রতিদিনই আমাদের অভিযান পরিচালনা রয়েছে, তিনি আরো বলেন এ ৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞা চলো ওমান কালে এরই মধ্যে আমরা ২৭২ টি অভিযান পরিচালনা করেছি চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য আন্ডারে, আমরা মোবাইল কোর্ট করেছি ৫ টি, জাল আটক করেছি ৩২৮ টি আটককৃত জালের দৈর্ঘ্য ৬.২৩৫ লক্ষ মিটার, একটা নৌকা আটক করেছি মামলা দিয়েছি ২ টি,মাছ জব্দ করেছি ৮৭৭৫ কেজি, জরিমানা করেছি ১৫৫০০ টাকা, নিলাম করেছি ৪৪৫৮০০ শত, এটা শুধু মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার মৎস্য দপ্তরের আয়ত্তে। এ অভিযানের বিষয়ে কাট্টলি রাসমণি ঘাট, ইপিজেড থানা দিন আকমাল আলী ঘাট, পতেঙ্গা থানাধীন মুসলিমাবাদঘাটে কাদের কাছ থেকে আসলে অভিযানের মাধ্যমে মাছগুলো জব্দ করা হচ্ছে কিংবা এ ঝাটকা ইলিশ ধরার পিছনে কারা জড়িত রয়েছেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোন সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি, তিনি বলেন অভিযান ও সংবাদের ভিত্তিতে ঘাট গুলোতে গিয়ে আড়ৎ থেকে মাছগুলো জব্দ করি এবং আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে আড়ৎ জড়িত সকলেই ঘা ডাকা দিয়ে থাকে তাই নির্দিষ্ট করে বলা অসম্ভব।
স্হানীয়রা বলছে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড, পুলিশ থাকার পরও যদি সামুদ্রিক মৎস্য আইন ২০২০ উপধারা (২) মোতাবেক সামুদ্রিক মাছের সুষ্ঠু প্রজনন ও টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই মোট ৬৫ দিন সামুদ্রিক মাছ ও ক্রাশটাসিয়ান্স আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বাস্তবায়ন করতে না পারে তবে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করে দেশের লাভ কি???


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category