Home : বাংলাদেশ : অপরাধ : সাবরিনার কল লিস্ট ধরে তদন্ত চলছে

সাবরিনার কল লিস্ট ধরে তদন্ত চলছে

জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা চৌধুরীর মোবাইল ফোনের কল লিস্টে থাকা নম্বর ধরে ধরে তদন্ত করছে পুলিশ। তিনি একাধিক মোবাইল সিম ব্যবহার করতেন, যা সন্দেহ বাড়িয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মনে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ বলেছেন, ‘তদন্তের স্বার্থে আমরা কল লিস্ট ধরে কাজ করছি। কেননা, প্রতারণা করতে অনেক সিম ব্যবহার করা হয়।’
তেজগাঁও থানা সূত্রে জানা গেছে, সাবরিনার কাছ থেকে চারটি সিম জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। একটি তার নামে থাকলেও অপরটি আরেকজনের নামে নিবন্ধিত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তা স্বীকারও করেছেন সাবরিনা।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা সন্দেহ করছেন, সাবরিনা এসব মোবাইল সিম দিয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সাবরিনা সব সময় ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা, রাজনীতিকের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলে তার একার পক্ষে এত বড় অপরাধ করা সম্ভব নয়।
এদিকে, তেজগাঁও থানার হাজতখানায় প্রথম রাত পায়চারি করে ও না ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন ডা. সাবরিনা। তাকে চিন্তাগ্রস্ত দেখাচ্ছিল। তার নিরাপত্তায় দুজন নারী পুলিশ ছিলেন। তাদের সঙ্গে মাঝে মধ্যে কথাও বলেছেন। খেয়েছেন থানা থেকে সরবরাহ করা খাবার।
সাবরিনা ছিলেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক সার্জন। পশাপাশি তিনি রেজিস্ট্রারের দায়িত্বও পালন করেন। তিনি খেয়াল-খুশিমতো অফিসে যাতায়াত করতেন। ঠিকমতো সিটে থাকতেন না। অফিসের বিভিন্ন স্টাফদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। তবে ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতেন না। কারণ, হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল।
করোনা টেস্টের ভুল রিপোর্ট সরবরাহের অভিযোগে গত ২২ জুন বেসরকারি জেকেজি হেলথ কেয়ারে অভিযান চালায় র‌্যাব। এতে ওই প্রতিষ্ঠান এবং তার কর্ণধারদের প্রতারণার সব তথ্য বেরিয়ে আসে। সাবরিনা এ প্রতিষ্ঠানের চেয়্যারম্যান ছিলেন। রোববার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

About Moniruzzaman Monir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*