প্রধান মেনু

ডিসেম্বর, ২০১৯

 

আ’লীগের নতুন কমিটি থেকে ছিটকে পড়লেন ৬ মন্ত্রী

সদ্য ঘোষিত আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে মন্ত্রিসভার ৫ সদস্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল থাকলেও দলীয় পদ থেকে ছিটকে পড়েছেন ৬ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) ঘোষিত আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে কয়েক মন্ত্রী বহাল থাকলেও, মন্ত্রিসভায় আছেন এমন বেশ কয়েকজন নেতা ‌এখন পর্যন্ত দলের ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসতে পারেননি।

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামী লীগ দল ও সরকার মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। দলকে আরও শক্তিশালী করতে দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকে সরকার থেকে আলাদা করার আলোচনা চলছিল। এরই অংশ হিসেবে মন্ত্রিসভায় থাকা বেশ কয়েক নেতা দলীয় পদ থেকে ছিটকে পড়েছেন বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। এবারের জাতীয় সম্মেলনে অনেক নেতাই বাদ পড়তে যাচ্ছেন, সম্মেলনের আগে থেকেই এমন আলোচনা ছিল নেতা-কর্মীদের মুখে মুখে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও মন্ত্রিসভায় আছেন এবং একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন- পুনরায় সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুনরায় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদে নির্বাচিত কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, পুনরায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মণি ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত তথ্যমন্ত্রী ড. ‍হাছান মাহমুদ।

নতুন এ কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ হারিয়েছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী,  পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আইন বিষয়ক সম্পাদকের পদ হারিয়েছেন- গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম,  মহিলা বিষয়ক সম্পাদকের পদ হারিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা ও কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যপদ হারিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান।

তবে আওয়ামী লীগের ৮ বিভাগের জন্য আটজন সাংগঠনিক সম্পাদক দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকেন। নতুন কমিটিতে ৫ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আরও তিনটি সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ খালি রয়েছে। এছাড়া কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্যদের নামও ঘোষণা করা হয়নি। দ্রুতই এ পদগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।


হাছান মাহমুদ ও বাহাউদ্দিন নাছিম নতুন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক

আওয়ামী লীগের ৮২ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটিতে চার জনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এরমধ্যে আগে থেকেই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মাহবুব-উল আলম হানিফ ও  ডা. দীপু মনি। আর নতুন করে দায়িত্ব পেলেন ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে কাউন্সিলের দ্বিতীয় ও শেষ অধিবেশনে কমিটির কিছু সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

কাউন্সিলে সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল মতিন খসরু। এতে সমর্থন দেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য। পরে নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন অন্য কাউন্সিলরদের তিনবার জিজ্ঞাসা করলে তারাও শেখ হাসিনার নাম বলেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি ঘোষণা করা হয়। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করেন দলের সদ্য বিলুপ্ত ঘোষিত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। পরে তাতে সমর্থন দেন উপস্থিত সবাই।

সভাপতিমণ্ডলীতে আছেন,

নতুন কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা হলেন, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফরউল্লাহ, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, রমেশ চন্দ্র সেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, আবদুল মতিন খসরু, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান। এদের মধ্যে শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান নতুনভাবে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।


সভাপতিমণ্ডলীতে নতুন তিন মুখ

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ সভাপতিমণ্ডলীতে নতুন করে তিন জন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) দলটির ২১তম সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়।নানক ও আবদুর রহমান বিদায়ী কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তবে এর আগে শাজাহান খান কেন্দ্রীয় কমিটির কোনও পদে ছিলেন না।

নতুন কমিটিতে সভাপতিমণ্ডলীর অন্য সদস্যরা হলেন—সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফরউল্লাহ, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, রমেশ চন্দ্র সেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, আবদুল মতিন খসরু।


আ. লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সম্পাদক কাদের

নবম বারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। আর দ্বিতীয় বারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন ওবায়দুল কাদের। দলের ২১ তম জাতীয় সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে সাড়ে সাত হাজার কাউন্সিলর তাদের নির্বাচিত করেন। আগামী তিন বছরের জন্য তারা দায়িত্ব পেলেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণার পর দলের কাউন্সিলরা সমস্বরে তাতে সমর্থন জানান।দলের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এ নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। এর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। আজ শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই অধিবেশন হয়।

নতুন নেতা নির্বাচনের সময় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল মতিন খসরু সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করেন। এই প্রস্তাব সমর্থন করেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য। সর্বসম্মতিক্রমে তা গ্রহণ করা হয়।

সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। সমর্থন করেন আবদুর রহমান। দুই জনই বিদায়ী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

কাউন্সিল অধিবেশন শেষে ৮১ সদস্যের কমিটির কয়েকজনের নাম ঘোষণা করেন সভাপতি শেখ হাসিনা। কাউন্সিলররা তাকে পুরো কমিটি গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন। সভাপতিমণ্ডলীর সঙ্গে পরামর্শ করে পরে তিনি ২৮ জন কাযনির্বাহী সদস্যের নাম ঘোষণা করবেন।

১৯৮১ সাল থেকে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আছেন। ৩৮ বছর ধরে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন। ওবায়দুল কাদের ২০১৬ সাল থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর আগে শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন শুরু হয়। দুই দিনের সম্মেলনে আজ শনিবার ছিল শেষ দিন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাড়ে সাত হাজার কাউন্সিলর এতে অংশ নেন। কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগের বাৎসরিক বাজেট, সংশোধিত গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র কাউন্সিলরদের কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে।


‘আওয়ামী লীগে আছি, থাকবো, এটাই আমার পরিবার’

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি আওয়ামী লীগে আছি, এখানেই থাকবো। এটাই আমার পরিবার। ‘৭৫ সালে আমি মা-বাবা, ভাইবোন হারিয়ে বিশাল এক পরিবার পেয়েছি। সেটা হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পরিবার।’

নবমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি একথা বলেন। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের কাউন্সিলের দ্বিতীয় ও শেষ অধিবেশনে দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দায়িত্বে আছি। ৩৯ বছর চলছে। আমি কোনও পদে থাকি বা না থাকি আওয়ামী লীগে আছি, এখানেই থাকবো। এটাই আমার পরিবার। আমার আপনজন যাদের রেখে গিয়েছিলাম তাদের কাউকে পাইনি। তবে আমি পেয়েছিলাম বিশাল একটা পরিবার, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। নেতাকর্মীদের ভালোবাসই আমার চলার পথের শক্তি। আমার অর্থ, সম্পদ নেই। নেতাকর্মীদের ভালোবাসাই আমার একমাত্র শক্তি। সেজন্য চেষ্টা করেছি সংগঠনকে গড়ে তুলতে। তবে সামনে আপনাদের ভাবতে হবে। আমার ৭৩ বছর বয়স হয়েছে। এটা ভুলে গেলে চলবে না। নতুন নেতা নিয়ে ভাবতে হবে। দলকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।’
দ্বিতীয়বার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় ওবায়দুল কাদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এবার আপনারা আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন নতুন পর্ষদ গঠনের। ওবায়দুল কাদের পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। আর সভাপতি হিসেবে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি আমার সাধারণ সম্পাদককে অভিনন্দন জানাই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করছি। ছাত্রলীগ থেকেই আমাদের সবার যাত্রা শুরু।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে গুরুদায়িত্ব আপনারা আমাকে দিয়েছেন তা যেন যথাযথভাবে পালন করতে পারি তার জন্য সবার দোয়া চাই, সমর্থন চাই। এই কাউন্সিল থেকেই সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সংসদ মনোনয়ন বোর্ড কাউন্সিল গঠন করে নিতে চাই।’
১৯৮১ সাল থেকে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আছেন। ৩৮ বছর ধরে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন। ওবায়দুল কাদের ২০১৬ সাল থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন।
এর আগে শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন শুরু হয়। দুই দিনের সম্মেলনে শনিবার শেষ দিন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাড়ে সাত হাজার কাউন্সিলর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে অংশ নেন।


কাজী রুকাইয়া ইয়াসমিন শম্পার সংগ্রামের গল্প

গল্পটি কাজী রুকাইয়া ইয়াসমিন শম্পার। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ তম সমাবর্তন এর মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের অন্যতম কলেজ ইডেন মহিলা কলেজ থেকে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে বি.এস.সি. সম্মান ডিগ্রী লাভ করেছেন। হাজার সীমাবদ্ধতাকে জয় করে অনুপ্রেরণার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন তিনি।এখন বর্তমানে পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের অন্যতম কলেজ ইডেন মহিলা কলেজে এম.এস.সি (মাৎস্যবিদ্যা) বিভাগে।
মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান তিনি। জীবনের সাথে কতটা যুদ্ধ করে তিনি উঠে এসেছেন আজকের এই অবস্থানে।বি.এস.সি(সম্মান) ডিগ্রী লাভ করব কখনও স্বপ্নেও ভাবতে পারি নি। আর দশটা মেয়ের মত সুন্দর স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা করার মত সুযোগ হয় নি।কখন রাত হবে সবাই ঘুমিয়ে পড়বে আর সারা রাত জেগে ক্লাস এর পড়া নাহলে পরীক্ষার পড়া পড়ব এটাই ছিল প্রধান লক্ষ্য।তবুও মনের মধ্যে একটা জিদ কাজ করত যে পড়াশোনা আমাকে করতেই হবে বড় আমাকে হতেই হবে।তাই সারাদিনের ক্লান্তি পরিশ্রমের পর রাতে যখন পড়তে বসতাম, ক্লান্তি শরীর সায় না দিলেও মনের জোরে পড়তে বসতাম।আমি যখন আমি যখন ক্লাস ২ তে পড়ি তখন আমার বাবার বিমানবাহিনীর অফিসিয়াল গাড়িতে এক্সিডেন্ট করে আমার বাবা বিমান বাহিনীর একজন সৈনিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।এখন অবসরপ্রাপ্ত। মূলত গাড়ি এক্সিডেন্ট এর জন্য তার চাকরি চলে যায়। প্রথম থেকেই আমার পড়াশোনার সমস্ত ভারবহন এর দায়িত্ব পালন করেছেন আমার নানু আপা এবং আমার নানা ভাইয়া মমতা সালাম আর সালেহ আহমেদ সালাম।তাদের দুইজনের নাম এজন্য নিলাম যে তাদের অর্থনৈতিক সাপোর্ট এর জন্য আমার এই পথ পাড়ি দেওয়াটা অনেকটাই সহজ হয়েছে। ক্লাস ফাইভ এ পেয়েছিলাম ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি। ক্লাস সেভেন এ বাবা মার অফিসিয়ালি ডিভোর্স হয়ে যায়।এরপর হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কষ্টকর হয়ে পড়ে ছোট্ট শম্পার। ক্লাস নাইন এ পারিপার্শ্বিক নানা কষ্টকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে এবং দুই পরিবারের পক্ষ থেকে আসা মানসিক চাপ থেকে রক্ষা পেতে ঢাকায় চলে আসি নানুর বাসায়। নিজের বাসা ছাড়া অন্যের বাসায় পড়াশোনা করাটা কতটা কষ্টকর হোক সে যতই আপনজন এই অনুভূতি বেশ বড় করেই মনে জায়গা করে নিয়েছে আমার মনে অর্থনৈতিক বা খাওয়া পড়ার কষ্ট কখনো উপলব্ধি করিনি কিন্তু সুন্দর স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা না করতে পারা এবং মানসিক চাপ এর কষ্ট টা খুব ভালভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছি। দিনে পড়তে পারতাম না কারণ প্রায় সময় বাসায় মেহমান থাকত বিশেষ করে পরীক্ষার সময়।নিজস্ব কোন রুম ছিল না পড়াশোনা করার। এজন্য পড়াশোনার একমাত্র সময় ছিলো গভীর রাত। আত্নীয় স্বজন সবাই ব্যাপারটা জানে যে শম্পা সারা রাত জেগে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দেই। এভাবে এস.এস.সি পাশ করি ২০১০ এ জিপিএ ৫ পেয়ে। ইন্টারমিডিয়েট এ জিপিএ ৪ আসে কারণটা বলতে চাই না। ঢাকার বাইরে ভার্সিটিগুলোতে পরীক্ষা দেই কারণ পরিবারের রেস্ট্রিকশন ছিলো ঢাকার
বাইরে পড়াবে না।এজন্য
ঢাকাতেই চেষ্টা করি। হয়ে যায় ইডেন মহিলা কলেজে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে। অনার্স শেষ বর্ষে পারিবারিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আমি আমার নানু বাসা ছেড়ে দেই। শুরু হয় আসল সংগ্রামী জীবন। ফাইনাল ইয়ারের ফর্ম ফিলাপ করি আমি আমার কিন্ডারগার্টেন স্কুল এ পার্ট টাইম চাকরি করা টাকা দিয়ে। এভাবে অনার্স লাইফ এর চার বছর এর প্রতি বছর কষ্ট করে পড়াশোনা করে ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে সিজিপিএ ৩.৩০ পেয়ে বি.এস.সি অনার্স পাশ করি। মা অন্য জায়গায় বিয়ে করলেও তার সন্তান দের প্রতি এবং তাদের পড়াশোনার ব্যাপার এ খুবই সচেতন ছিলেন।যতদিন তার কাছে ছিলাম মা আমার পড়াশোনার জন্য যথেষ্ট কষ্ট করেছেন এবং আমার মা যাকে বিয়ে করেছেন তাকে আমার সৎ বাবা বলব না আমার বাবাই বলব তাকে কারণ তার ও অনেক সহযোগিতা ছিল আমার এই সংগ্রামী জার্নি তে।আমি আমার এই সম্মান ডিগ্রী প্রাপ্তির আনন্দটা নানু আপা নানু ভাইয়া সহ আমি আমার বাবা মা সবার সাথে শেয়ার করতে চাই। দূরে থেকেও তারা আমাকে অনেক অনূপ্রেরণা দিয়েছেন। আমার জীবনে যারা আমার এই দূর্গম পথে সাথি হয়ে ছিলেন তাদের জন্য ভবিষ্যতে কিছু করতে চাই। শেষ সময়ে আমার বান্ধবীরা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। আমাকে মানসিক ভাবে সাহায্য করার জন্য আমি আমার বান্ধবীদের কেও অসংখ্য ধন্যবাদ দিতে চাই। এখন আমি মাস্টার্স করছি নিজের কষ্টের অর্জিত টিউশনির টাকায়। এর মাঝে যে শান্তি উপলব্ধি করছি আসলে বলে বোঝাতে পারব না। আমি ভবিষ্যতে সরকারি চাকরিজীবী হতে চাই। পাশাপাশি বর্তমানে একটি সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠিত সংগঠন দিয়ামনি মাল্টিমিডিয়ার অর্থসম্পাদক হিসেবে কর্মরত রয়েছি।শুধু আর্থিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত নয় বরং যারা আমার মত মানসিকভাবেও সুবিধাবঞ্চিত তাদের জন্য কাজ করতে চাই। আমার পড়াশোনার সর্বশেষ পথে আমার এই প্রিয় সংগঠন ও সংগঠন এর চেয়ারম্যান দিয়ামনি মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার মোঃ মনিরুজ্জামান অপূর্ব আমার শ্রদ্ধেয় দাদা ভাই ঢাল হয়ে দাড়িয়েছেন। আমি সবার প্রতি চির কৃতজ্ঞ। নিজের সংগ্রামী জীবন ও আমার ভার্সিটি জীবন থেকে অনেক শিক্ষা গ্রহণ করেছি। এই শিক্ষা গ্রহণ করে এর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের একজন যোগ্য নাগরিক হয়ে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই। আমার এই শুভ পরিকল্পনায় সবার দোয়া কামনা করছি।


শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে মিরপুরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ৭টার দিকে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা। প্রথমে রাষ্ট্রপতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবেও দলের নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ডক্টর শিরীন শারমিন চৌধুরী। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরের মানুষ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।


অপরাধীকে শাস্তি পেতেই হবে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অপরাধী যে-ই হোক, অপরাধীকে শাস্তি পেতেই হবে। আমরা যেমন মানবাধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিচ্ছি, পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি-এগুলোর বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এগুলো সমাজকে ধ্বংস করে, সমাজকে নষ্ট করে। সমাজ থেকে এই জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে মানবাধিকার দিবসের অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। মানবাধিকার দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য- ‘মানবাধিকার সুরক্ষায় তারুণ্যের অভিযাত্রা’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আমরা হাতে নিয়েছি। যেখানেই মানবাধিকার লঙ্ঘন হোক আমরা এ বিষয়ে সোচ্চার। কারণ আমরা সব সময় মনে করি সরকার মানে জনগণের সেবক, জনগণের কাজ করে- সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।


প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির অভিযোগে তারেক-ফখরুলসহ ১২ জনের নামে মামলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১২ জনের নামে মামলা হয়েছে।

বিস্তারিত আসছে…