প্রধান মেনু

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ৪th, ২০২০

 

আরএমপির এক পুলিশের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসীর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) শাহাবুলের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে যৌন হয়রানিসহ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন একই থানায় কর্মরত থাকার সুবাদে এই পুলিশ কর্মকর্তা জড়িয়ে পড়েছে মাদক ব্যবসার মত জঘন্য পেশায় । প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের আড়াল করে নিরহ মানুষকে মিথ্যা মামলা সহ হয়রানি ও আটক ব্যানিজ্যে জড়িত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে এই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। মতিহার থানায় বসবাসরত সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে অভিযোগ করেছে আর এম পি পুলিশ কমিশনার ও মহা পুলিশ পরিদর্শক বরাবর । অভিযোগে উল্লেখ্য রয়েছে, মতিহার থানার এসআই শাহাবুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবত এ থানায় থাকার কারণে এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে মাসিক টাকা নিয়ে মাদক ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে বলেও উল্লেখ্য করেছে। যে সকল মাদক ব্যবসায়ীর সাথে সখ্যতার অভিযোগ উঠেছে তাদের মধ্যে মাদক সম্রাট পালা ও কাদো এদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে । কিছুদিন পূর্বে পালা ও কাদোকে আটক করে দুই লক্ষ টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ও অভিযোগ উঠেছে এই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। পালা ও কাদো কে হাতে রেখে এস আই সাহাবুল নীরহ মানুষকে আটক করে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন, অন্যথায় হিরোইন মামলায় চালান দেয় । প্রতিটি মামলার হিরোইন ইয়াবা দিয়ে থাকে পালা ও কাদো । বেশ কিছু দিন আগে ডাসমাড়ি শ্যামপুর এলাকার এবাদত, পিতা বিলাত উদ্দিনকে আজিজুলের মোড় থেকে কোন মাদক ছাড়াই আটক করে এসআই শাহাবুল। পরে আটককৃত পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে সে। এবাদতের পরিবার সেই টাকা দিতে অস্বীকার করলে ২৬ গ্রাম হেরোইন দিয়ে মিথ্যা মামলা দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই দিনে চরশ্যামপুর এলাকার শরিফ, পিতা আকবর আলীকে কোন মাদক ছাড়াই আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে ২৬ গ্রাম হেরোইনসহ মামলা দেয়। অপরদিকে, একই দিনে চরশ্যামপুরের মোবারক এলাকায় না থাকলেও মিথ্যা পলাতক আসামী করে দুইটি মাদক মামলা দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে। এলাকার মোস্তাকিন নামের এক রিক্সা চালককে রাস্তা থেকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে তার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করলে তার দাবীকৃত অথ দিতে না পারায় তাকে হেরোইনসহ মামলা দেওয়া হয় বলেও জানা গেছে। বর্তমানে সে (জেল হাজতে আটক রয়েছে) এভাবেই গত ৭ দিন আগে কোলিডোর মোড় এলাকার হাসান নামের একজন ব্যাক্তিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হেরোইন দিয়ে মামলা দেয় এসআই শাহাবুল। এছাড়া মতিহার থানা এলাকার কিছু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর কাছে থেকে মাসিক টাকা নিয়ে মাদক ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়ে আইনের অপব্যবহার করছে এসআই শাহাবুল। এলাকার প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ী যাদের নিকট থেকে সুবিধা গ্রহন করেন তাদের মধ্যে রয়েছে, ডাসমাড়ি মিজানের মোড় এলাকার জালালের ছেলে আইযুব, ওবাইদুলের ছেলে মিঠু, চাহারের ছেলে আক্তার, আসকানের ছেলে কামরুল, রুপচানের ছেলে বুলবুল, জেবেরের ছেলে আরিফ, সামাদের ছেলে আসলাম, আনারুলের বউ গোলে, একছেদের মেয়ে কাদু আকবরের ছেলে সুমন, ডাসমারী খোজাপুর এলাকার মৃত মোক্তারের ছেলে খাদেমুল ইসলাম পালা, মোটা জাকা, বকুল, মিলন, কামরুল, ফয়সাল, জাহাজ ঘাট এলাকার সুরুজ (বর্তমানে কারা হাজতে বন্দি) জিল্লুর ছেলে বাবু, মিজানের মোড়ের নুর মোহাম্মাদের ছেলে আলিম । অন্যদিকে যাদেরকে দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন তারা হলো, আনারুলের স্ত্রী চম্পা, বুলবুলের স্ত্রী রুমা, আরিফের স্ত্রী রুনা এসব মাদক ব্যবসায়ীর কাছে থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসআই শাহাবুল এলাকায় তাদের প্রাকাশ্যে মাদক ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে বলে ও অভিযোগ রয়েছে। নামের মিল রেখে আটক ব্যানিজ্যে মুল হাতিয়ার হিরোইন যাকে যখন খুশি আটক করে হিরোইন মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন এস আই সাহাবুল অন্যথায় হিরোইন দিয়ে চালান করেন । নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক ব্যক্তি বলেন ,পালা ও কাদোর কথা মত নুর মোহাম্মদের ছেলে রুপচান ও রুপচানের ছেলে বাদশা, টুটুল, বুলবুলকে মিথ্যা মামলা দেয় অন্য মাদক ব্যবসায়ীকে আড়াল করার জন্য । মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, হামেদের ছেলে ইয়াছিন, সুরমানের ছেলে কাবিল, জালালের ছেলে রুবেল, বারি, । যাদের আটক করে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়েছিল, টাকা না দেওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীর নামের মিলে কারনে তাদেরকে মিথ্যা মামলা দেয় এস আই সাহাবুল । এদিকে বিশ্বাস্থ একটি সুত্র নিশ্চিত করে, জিনা ও বাবু নামের এক গরু ব্যবসায়ীকে আটক করে এস আই সাহাবুল ও এ এস আই আনোয়ার । আটকের পর জিনার নিকট থেকে ৭০ সত্তর হাজার, বাবুর নিকট থেকে ৫০ পঞ্চাশ হাজার টাকা নেয় । অপর এক ঘটনায় ভ্যানচালক রবিউলের ছেলেকে আটক করে ১০ দশ হাজার টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ আছে । অন্য এক ঘটনায় আলমের মেয়ে রোকসানা কে আটক করে নেয় ৫০ হাজার টাকা । এদিকে খোজাপুর এলাকার সোহেল, প্রিয়া, মেহেদী নামের তিনজনের নিকট থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে । অভিযোগ রয়েছে ডাসমাড়ি এলাকার এক গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দেওয়ায় সে রাজি না হলে মাদকসহ মামলা দেয়ার হুমকি দেন মতিহার থানায় এসআই শাহাবুল। আরএমপি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পূর্বেও এই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

সুত্রঃ সংবাদ চলমান