প্রধান মেনু

Jaffreyalam

 

21/09/2018 পৃষ্ঠা নম্বর-৭


২১/০৯/২০১৮ পৃষ্ঠা নং-৮


১০ রানে ৮ উইকেট নিয়ে নাদিমের বিশ্বরেকর্ড!

অনলাইন ডেস্ক :
ভারতের বিজয় হাজারে ট্রফির ম্যাচে রাজস্থানের বিরুদ্ধে ১০ রানে ৮ উইকেট তুলে নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার নজির গড়লেন ঝাড়খন্ডের স্পিনার শাহবাজ নাদিম। বাঁ-হাতি এই স্পিনার রাজস্থানের বিরুদ্ধে ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে খরচ করেছেন মাত্র ১০ রান৷ ৪টি মেডেনসহ নিয়েছেন ৮ উইকেট৷

এর আগে ‘লিস্ট এ’ ক্রিকেটে সেরা বোলিং ফিগার ছিল এক ভারতীয়রই৷ ১৯৯৭-৯৮ ক্রিকেট মরশুমে দিল্লির বাঁ-হাতি স্পিনার রাহুল সাংভি হিমাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে ১৫ রান খরচ করে ৮টি উইকেট পেয়েছিলেন৷

এছাড়া একদিনের ক্রিকেটে ইনিংসে আট উইকেট নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার চামিন্ডা ব্যাস। ২০০১ সালে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৯ রানের বিনিময়ে আট উইকেট নিয়েছিলেন এক ইনিংসে। এছাড়া ১৯৮৮ সালে সাসেক্সের বিরুদ্ধে কাউন্টির ম্যাচে ডার্বিশায়ারের হয়ে সাবক ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি মাইকেল হোল্ডিং ২১ রানের বিনিময়ে আট উইকেট নিয়েছিলেন। ‌‌

শাহবাজ নাদিম জাতীয় দলের হয়ে এখনও পর্যন্ত খেলার সুযোগ না পেলেও বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেললেন৷ সাম্প্রতিক সময়ে ঝাড়খন্ড দলের হয়ে শাহবাজ ধারাবাহিকভাবে ফল করছেন৷ সম্প্রতি ভারতীয় এ দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়া এ দলের বিরুদ্ধে খেলেছেন তিনি৷ ২৯ বছরের স্পিনার এখনও পর্যন্ত ৯৯ টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলে ৩৭৫ উইকেট পেয়েছেন৷

৮৭টি লিস্ট এ ম্যাচে ১২৪ উইকেট পেয়েছেন৷ আইপিএল ও অনান্য টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০৯ ম্যাচে নাদিমের উইকেট সংখ্যা ৮৯৷ এবার ‘লিস্ট এ’ ক্রিকেটে আট উইকেট তুলে নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেললেন শাহবাজ৷ তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের সুবাদে মাত্র ২৮.৩ ওভারে ৭৩ রানে রাজস্থানের ইনিংস গুটিয়ে যায়৷ জবাবে ১৪.৩ ওভারের তিন উইকেট হারিয়ে প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় ঝাড়খন্ড৷


কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় কলকাতার তাজিয়া মিছিল

আশুরা উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে মিছিল বের করে শিয়া মতাদর্শে বিশ্বাসী ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। এদিন কলকাতা শহরের বি.বি.গাঙ্গুলী স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিট, খিদিরপুর, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় এই মিছিল করা হয়। প্রতিটি মিছিল থেকেই বুক চাপড়ে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ স্লোগানে মাতম করতে দেখা যায়। এছাড়া চলে কোরআনপাঠ, বিশেষ নমাজ পাঠ ও ধর্মীয় আলোচনা। কলকাতার পাশাপাশি অন্য জেলাগুলিতেও আশুরার মিছিল বের করা হয়। তাজিয়া মিছিল উপলক্ষ্যে এদিন প্রতিটি জায়গায়তেই ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল মিছিলের আগে ও পরে সাদা পোশাকে ও উর্দিধারী পুলিশ মোতায়েন করা ছিল।


বিচারিক কর্মকর্তারা ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ করেছেন

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা বিচারের জন্য কারাগারে আদালত বসানো নিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে আজ রোববার দুপুরে সাক্ষাৎ করেছেন তাঁর আইনজীবীরা। এ ক্ষেত্রে ‘বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহার’ করে সীমা লঙ্ঘনকারী বিচারিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে একটি লিখিত আবেদনও দিয়েছেন তাঁরা।

খালেদার আইনজীবীদের সাক্ষাতের পর পরই প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সুপ্রিম কোর্টে আসেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। প্রধান বিচারপতির খাসকামরায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেন আইনমন্ত্রী। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ঈদের পর সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলাম। পারিবারিক কারণে এত দিন দেখা করতে পারিনি। আজ মনে করলাম যে ঈদের সাক্ষাৎ করা দরকার।’

এর আগে বেলা ১টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধান বিচারপতির খাসকামরায় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, মীর নাসির উদ্দীন ও এম বদরুদ্দোজা। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তাঁরা বেরিয়ে আসেন।

সাক্ষাতের পর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘হঠাৎ করে রাতের বেলা নিয়ম ও আইনবহির্ভূতভাবে জেলখানার একটি কক্ষকে কারাগার হিসেবে পরিগণিত করে একটি অস্থায়ী আদালত স্থাপন করা হয়েছে। আইনজীবীদের কোনো জুডিশিয়াল নোটিশ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।’

প্রধান বিচারপতির কাছে কী বলা হয়েছে বা তিনি কী বলেছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা মনে করেছি সংবিধানের অভিভাবক হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট। আর সুপ্রিম কোর্টের অভিভাবক হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি। হাইকোর্ট রুলস ১৯৭৩ অনুসারে এই ধরনের গেজেট নোটিফিকেশন করার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলোচনা না করে এই ধরনের কোর্ট স্থাপন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা আইনসম্মত হয়নি, এ কথাগুলো বলেছি। বলেছি, প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের অভিভাবক। আমরা মনে করি আপনার সুপ্রিমিসি এবং মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে সুপ্রিম কোর্টে সুপ্রিমিসি অবশ্যই থাকতে হবে। আপনার (প্রধান বিচারপতি) সঙ্গে আলোচনা না করে রাতের অন্ধকারে এ ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি বিচার বিভাগের জন্য খুবই দুঃখজনক। কোনো বিচারালয় এইভাবে স্থানান্তর করতে পারে না। প্রধান বিচারপতি ধৈর্যের সঙ্গে আমাদের কথা শুনেছেন ও আবেদন গ্রহণ করেছেন। আমরা আশাবাদী তিনি বিষয়টি বিবেচনা করবেন। উনি বলেছেন সার্বিক বিষয়টি উনি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।’

‘বিচারিক কর্মকর্তা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? এমন প্রশ্নে জয়নুল আবেদীন প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্বাহীদের বোঝানো হয়েছে।

আবেদনের অংশবিশেষ
আইনজীবী সূত্র বলেছে, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত দিক ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালত স্থানান্তরের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন ও সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকনের পক্ষ থেকে সাক্ষাতের সময় প্রধান বিচারপতির কাছে একটি লিখিত আবেদন দেওয়া হয়।
আবেদনে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথককরণ–সংক্রান্ত মাসদার হোসেন মামলার রায় ও সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ তুলে ধরা হয়েছে। ১১৬ অনুচ্ছেদ বলছে, ‘বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্বপালনে রত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি দান, ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধানে রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হবে।’

আবেদনের ভাষ্য, ঢাকার বিশেষ আদালত-৫ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ওই প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাহী ক্ষমতা চর্চা করেছে, যেখানে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে। সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন সব আদালতের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের ওপর ন্যস্ত। সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন ছাড়া ওই আদালত স্থানান্তর বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত। এ ধরনের কাজে সর্বোচ্চ আদালতের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি খাটো করা হয়েছে। বিচার বিভাগ পৃথকসংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের পর নির্বাহীর আদালত স্থানান্তর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

প্রকাশ্য আদালত সংক্রান্ত সংবিধানের ৩৫(৩) ও ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫২ ধারা তুলে ধরা হয়েছে আবেদনে। বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় কারাগার সুরক্ষিত ভবন যেখানে জনগণের প্রবেশ নিষেধ। জনগণের ওখানে সাধারণভাবে যাওয়ার সুযোগ নেই। এমন জায়গায় স্থানান্তরের ফলে খালেদা জিয়ার সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আবেদনে বলা হয়, খালেদা জিয়া এখন গুরুতর অসুস্থ, তিনি হাঁটতে পারছেন না। এ অবস্থায় বিচারের আগে তার চিকিৎসা প্রয়োজন। সরকার নিজেও অস্বীকার করেছে তিনি অসুস্থ। তারপরও সংশ্লিষ্ট আদালত তার পছন্দমতো কোনো চিকিৎসক দিয়ে তার চিকিৎসার জন্য যথাযথ কোনো পদক্ষেপ নেননি।
আরও বলা হয়, কারাগারের তালিকা থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারকে এখনো বাদ দেওয়া হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ছাড়া কারাগারকে আদালত ঘোষণা বেআইনি, অনুরূপভাবে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে তা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত।

খালেদার আইনজীবীর সাক্ষাতের পর পরই আইনমন্ত্রী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেন।

চিকিৎসা সেবা চেয়ে রিট
খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে। আজ রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করা হয়। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে চলতি সপ্তাহে রিট আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী।
খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী নওশাদ জমির রিটটি দায়ের করেন। পরে নওশাদ জমির প্রথম আলোকে বলেন, ইউনাইটেড বা বিশেষায়িত হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি বিশেষ বোর্ড গঠন এবং এখন পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসাসেবা-সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র আদালতে দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে এতে। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে রিট আবেদনে রুল চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিব, আইজি (প্রিজন), ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারসহ সাতজনকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে বলে জানান এই আইনজীবী।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালত স্থানান্তরে প্রজ্ঞাপন বাতিল চেয়ে গেল সপ্তাহে খালেদা জিয়ার পক্ষে এই আইনজীবী আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। এতে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওই গেজেট বাতিল করতে অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
এ বিষয় জানতে চাইলে নওশাদ জমির বলেন, ‘এখনো আইনি নোটিশের জবাব পাইনি। জবাব না পেলে রিট আবেদন দায়ের করা হবে।’


কিশোরদের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বেই খুন হয় মেহেদী: পুলিশ

দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে খুন হয় দক্ষিণখান চেয়ারম্যানবাড়ি নগরিয়া এলাকার মেহেদী হাসান শুভ (১৭)। গত ৩১ আগস্ট তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। গতকাল শনিবার মেহেদী হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাইফসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) উত্তর বিভাগ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদেই বের হয়ে আসে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান।

গ্রেপ্তার হওয়া অন্য ব্যক্তিরা হলো মনির, আরাফাত, সাইফুল, মেহেরাব, আপেল, সিফাত ও সোহেল। ডিবির একটি বিশেষ দল রাজধানীর দক্ষিণখান ও উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় প্রধান আসামি সাইফের কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার ছুরি উদ্ধার করা হয়।

মাসুদুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দক্ষিণখানের চেয়ারম্যানপাড়ার নগরিয়াবাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, বড়-ছোট দ্বন্দ্ব এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে ‘শান্ত’ ও ‘আরাফাত’ গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই হাতাহাতি ও মারামারি হতো। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মেহেদী খুন হয়। দক্ষিণখানের চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকায় কিশোরদের বিভিন্ন গ্রুপ সক্রিয় আছে। এদের মধ্য জিম-জিয়াদ গ্রুপ, শান্ত গ্রুপ, আরাফাত গ্রুপ, কামাল গ্রুপ ও আনছার গ্রুপ অন্যতম। এই গ্রুপগুলো ওই এলাকায় চাঁদাবাজি, ইভ টিজিং, ছিনতাই, হত্যাকাণ্ডসহ নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত।

মাসুদুর রহমান আরও বলেন, ঈদুল ফিতরের ১০ থেকে ১৫ দিন আগে ‘আরাফাত’ গ্রুপের সদস্য কাউসার ওরফে কডা ‘শান্ত’ গ্রুপের হুন্ডা মেহেদীকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করে। ওই ঘটনার রেশ ধরে হুন্ডা মেহেদী ও মেহেদী হাসান শুভ কডাকে মারধর করে। পরে ১৮ আগস্ট মেহেদী হাসান শুভসহ ‘শান্ত’ গ্রুপের সদস্যরা ‘আরাফাত’ গ্রুপের সাইফকে মারধর করে। ৩১ আগস্ট মেহেদী এবং নাজমুল ‘আরাফাত’ গ্রুপের তৌকিরের বাঁ হাতের কবজি ও বুকের বাঁ পাশে সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এই ঘটনার পর থেকে ‘আরাফাত’ গ্রুপের সদস্যরা মেহেদী ও নাজমুলকে মারার জন্য খুঁজতে থাকে। ঘটনার দিন বিকেলে কেসি কনভেনশন হলে একটি জনসভায় ‘শান্ত’ গ্রুপের লোকজন মিছিল নিয়ে আসার সময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ‘আরাফাত’ গ্রুপের সদস্যরা মিছিলের ওপর আক্রমণ করে। ‘আরাফাত’ গ্রুপের সানি ও সোহেল মেহেদীকে জড়িয়ে ধরে। সাইফ ছুরি দিয়ে মেহেদীর বাঁ কানের নিচে আঘাত করে এবং অন্যরা লাঠি দিয়ে মারধর করে। আহত অবস্থায় মেহেদীকে প্রথমে কেসি হাসপাতালে, পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

এ ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর নিহত মেহেদীর বাবা বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় থানা-পুলিশের পাশাপাশি তদন্ত শুরু করে ডিবি।


নাটক পাড়ার হুর যেতে চান বহু দূর

কাজের লম্বা ফিরিস্তি শুনে বোঝা যায়, বেশ ব্যস্ততায় সময় কাটে তাঁর। যাঁর কথা বলছি, সেই হুর-এ-জাহান অবশ্য বিনয়ের সঙ্গে হেসে বললেন, ‘অনেক না ঠিক, একটু ব্যস্ত থাকি আর কি।’ কী নিয়ে ব্যস্ততা? বিস্তারিত শুনতে বেশ সময় লেগে গেল। পড়াশোনার পাশাপাশি বিতর্ক, নাচ, আবৃত্তি, উপস্থাপনা, অভিনয় তো আছেই। ক্যাম্পাসেও কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয় হুর-এ-জাহানকে। একে একে সেগুলো বললেন স্নাতক পড়ুয়া এই শিক্ষার্থী।

ফেনীর ছাগলনাইয়া একাডেমি থেকে এসএসসি পাস করেছেন। এরপর ঢাকায় এসে ভর্তি হয়েছেন কুইন্স কলেজে। উচ্চমাধ্যমিক পেরোনোর পর তাঁর ঠিকানা হয়েছে ঢাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)। সাংবাদিকতায় পড়ার ইচ্ছে ছিল হুর-এ-জাহানের। মা-বাবার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে ভর্তি হন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগে। কিন্তু এই বিভাগে কিছুতেই মন টিকছিল না। অবশেষে বিভাগ পরিবর্তন করে থিতু হয়েছেন কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশলে।

স্কুলে পড়ার সময় নিয়মিত বিতর্ক আর আবৃত্তি করতেন। নাচে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। তবে স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে বড়রা নাচের মুদ্রা শিখিয়ে দিত। দেখে দেখে একটু একটু করে শিখেছেন হুর। ঢাকায় আসার পর রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে এক মাস সালসা শিখেছিলেন। এরপর বাফায় ক্ল্যাসিক্যাল। কিন্তু নিয়মিত চর্চা করা হচ্ছে না। কারণ ব্যস্ততা যে অন্য দিকে আরও আছে। ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক সংগঠনের ‘হেড অব পারফরম্যান্স অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট অরগানাইজেশনাল সেক্রেটারি’ তিনি। পদবিটা যেমন লম্বা, কাজও কম নয়!

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে নাচ, আবৃত্তি, উপস্থাপনা তো করেনই, ক্লাবের ছোট ভাইবোনদের প্রশিক্ষণও দেন হুর-এ-জাহান। শেখান র‍্যাম্পের হাঁটাচলা। মঞ্চের সাজসজ্জা তদারকির ভার থাকে তাঁর ওপর। চিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেন ক্লাব থেকে। মাঝে মাঝে কর্মশালার আয়োজন করেন। আর ‘ট্যালেন্ট হান্ট’ প্রতিযোগিতায় কাজ করেন বিচারক হিসেবে। আন্তবিশ্ববিদ্যালয় কোনো প্রতিযোগিতা হলে দলবল নিয়ে অংশগ্রহণ করেন হুর।

এসব তো গেল ক্যাম্পাসজীবনের কথা। হুর-এ-জাহান শুধু ক্যাম্পাসের তারকাই নন, টেলিভিশনেও তিনি সরব। স্নাতক শুরু করার পর থেকে টেলিভিশনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। তবে শুরুটা হয়েছিল রেডিও থেকে। সিটি এফএম-এর আরজে ছিলেন। বেসরকারি টিভি চ্যানেল বাংলাভিশনে চার বছর ধরে ‘দিন প্রতিদিন’ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছেন। এই চ্যানেলেই ‘সকাল বেলার রোদ্দুর’ ও ‘মিউজিক ক্লাব’ অনুষ্ঠান দুটির উপস্থাপক হিসেবে নিয়মিত দেখা যায় হুর-এ-জাহানকে। এবারের ঈদে উপস্থাপনা করেছেন ‘লাক্স স্টাইল ফাইল’। আলাদা করে বললেন বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট সিরিজের সময় প্রচারিত ‘ক্রিকেট হাইলাইটস’ ও ‘ক্রিকেট এক্সট্রা’ অনুষ্ঠান দুটোর কথা। খুব আনন্দ নিয়ে উপস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মাস সাতেক হলো উপস্থাপনা করছেন এনটিভির অনুষ্ঠান ‘এই সময়ের গান’।

শখের বশে গত ঈদে একটি নাটকেও অভিনয় করেছেন হুর। পাঁচ পর্বের ধারাবাহিকটির নাম ছিল হিরো কেন ভিলেন। প্রচারিত হয়েছে দীপ্ত টিভিতে। এখন কাজ করছেন বাংলাভিশনের একটি ধারাবাহিক নাটকে। নাম খেলোয়াড়। করপোরেট অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থাপনা করেন প্রায়ই। যত যা কিছুই করুন না কেন, উপস্থাপনা ছাড়তে চান না হুর। তিনি বলেন, ‘উপস্থাপনা আমি শখের বশে করিনি। এটা আমার পেশাও না। এটা আমার ভালোবাসা।’ বোঝা গেল, কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশলের এই ছাত্রীকে ‘প্রোগ্রামিং’-এর চেয়ে টিভি বা মঞ্চের ‘প্রোগ্রাম’গুলোই বেশি টানে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও তিনি নিজে নিজেই শিখেছেন অভিনয়, আবৃত্তি, উপস্থাপনা। এখনো প্রতিনিয়তই শিখছেন।

স্কুলে পড়ার সময় নানা ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। একবার বিতর্কে সেরা হলেন, একবার নাচে জেলায় দ্বিতীয় হলেন। কিন্তু পুরস্কার তাঁকে টানে না কখনো। মনের আনন্দে এসবে অংশ নিয়ে শুধু উপভোগ করেন।

বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হয়ে এত কিছু কী করে সামলান? পড়ার পাশাপাশি তাঁর শখের কাজগুলো চালিয়ে যাওয়া যে কঠিন, হুর-এ-জাহান সেটা মেনে নিলেন। ‘কাজটা সত্যিই কঠিন। বন্ধুরা সাহায্য করে। ক্লাস মিস করলে ওদের কাছ থেকে জেনে নিই, কী কী পড়ানো হলো।’ বলছিলেন তিনি। কখনো সকালে অনুষ্ঠান শেষে তাঁকে বিকেলের ক্লাসে ছুটতে হয়। কখনোবা সকালে ক্লাস করে তারপর যান শুটিংয়ে। শুটিংয়ের দলটাও খুব সাহায্য করে তাঁকে। পড়াশোনায় যেন ব্যাঘাত না হয়, সে জন্য তাঁর ওপর কাজ চাপিয়ে দেওয়া হয় না। আর পরিবার তো সব সময় পাশে আছেই। ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে একদিন সারা দেশের পরিচিত মুখ হতে চান হুর-এ-জাহান।


খালেদার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড করবে সরকার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য বেসরকারি দুটি হাসপাতালের কথা বলেছেন। কারাগারেও তাঁর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এরপরও বিএনপি নেতাদের অনুরোধের কারণে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আজ রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যায়। বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সেরা চিকিৎসা হয় সরকারি হাসপাতালগুলোতে। এরপরও বিএনপির পক্ষ থেকে ইউনাইটেড হাসপাতাল ও অ্যাপোলো হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নেন চিকিৎসকেরা। এরপরও বিএনপির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে। এ সময় সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেডিকেল বোর্ড শিগগির গঠন করা হবে। তবে ঠিক কবে বোর্ড গঠন করা হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। আজই (রোববার) এ বিষয়ে সভা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বিবেচনায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে। মেডিকেল বোর্ডে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরাও থাকবেন। তাঁরা যেভাবে পরামর্শ দেবেন, আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি দ্রুত বিশেষায়িত হাসপাতালে যেন তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ইউনাইটেড হাসপাতাল—যেটা তিনি (খালেদা জিয়া) পছন্দ করেন, সেই হাসপাতালে নেওয়ার জন্য তাঁকে (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) অনুরোধ করেছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যাঁরা দায়িত্বে আছেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইজি প্রিজনসহ অন্যদের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেবেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবেন বলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।

আজ বেলা ২ টা ৫৫ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত বিএনপির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হয়। বৈঠকের একপর্যায়ে কারা মহাপরিদর্শক মেজর জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্ষে প্রবেশ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিনিধিদলে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমিরউদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান ছিলেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ড নিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে বন্দী আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এর আগে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছিল, তাঁর অবস্থা গুরুতর নয়। পরে মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের পরামর্শে এক্স-রে পরীক্ষা করতে গত ৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয়।


বিএনপি-জামায়াতের ৪৫৩ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ

৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে পুলিশের ওপর হামলার মামলায় চট্টগ্রামে বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতাসহ ৪৫৩ কর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। একই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক আইনে করা আরও দুটি মামলা বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল ও মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।

আজ রোববার অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম মহিউদ্দিন মুরাদ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

তিন মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম, দলের যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সহসভাপতি মো. এনামুল হক, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য শামসুল আলম এবং জামায়াতের সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী। তাঁরা সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে বিএনপি-জামায়াতের মনোনয়নপ্রত্যাশী। নেতা-কর্মীদের দাবি, নির্বাচনের আগে কোণঠাসা করার কৌশল হিসেবে তাঁদের মামলায় আসামি করা হয়েছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে (২০১৫ সাল) চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি-সংলগ্ন নাসিমন ভবনের সামনে সমাবেশ ডেকেছিল ২০-দলীয় জোট। ওই দিন সভা চলাকালে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি হয় নেতা-কর্মীদের। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন নেতা-কর্মীরা। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আসলাম চৌধুরীসহ ৩০২ জনকে গ্রেপ্তার করে। আসামিদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী এখনো কারাগারে। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা, বিস্ফোরক আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারায় একটি মামলা করে নগরের কোতোয়ালি থানায়।

তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৪ জুলাই চট্টগ্রাম আদালতে পুলিশের ওপর হামলা, বিস্ফোরক আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের তিনটি ধারায় পৃথক তিনটি অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। আজ আদালত একটি অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। বাকি দুটি গ্রহণের জন্য পাঠান। আজ আমীর খসরু, জাফরুল, শাহাদাতসহ শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

আসামিদের পক্ষে প্রায় শতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুস সাত্তার প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের হয়রানি, আন্দোলন ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলা হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে আমীর খসরুসহ শীর্ষ নেতা-কর্মীদের ১৭৫ জন পুলিশের অভিযোগপত্র দেওয়া পর্যন্ত জামিনে ছিলেন। তাই রোববার ১৭৫ জনের জামিন স্থায়ী করার জন্য আবেদন করা হয়। আদালতকে বলা হয়, তাঁরা সম্পূর্ণ নির্দোষ। হয়রানির জন্য এই মামলা।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, আদালত পুলিশের ওপর হামলার মামলায় ৪৫৩ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন। পরবর্তী তারিখে এটির বিচার শুরু হবে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাটি ট্রাইব্যুনালে ও বিস্ফোরক আইনেরটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারের জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে। দুটির অভিযোগপত্র সেখানে গ্রহণ করা হবে।