বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন

পল্লবীর সাবেক সেচ্ছাসেবকলীগ নেতার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা / ৮০৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ১০:১৯ অপরাহ্ন

রাজধানী পল্লবী এলাকার সেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক আমান উল্লাহ আমানের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন এক ভুক্তভোগী। গত ১৮ আগস্ট পল্লবী থানার সিরামিক রোডের টেকের বাড়ী বস্তিতে নিজ ঘরে ঘটনাটি ঘটান আমান। তিনি ওই এলাকার পুলিশের ‘ফর্মা’ হিসেবেও পরিচিত।

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণী নিজেই আদালতের কাছে বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে আমান উল্লাহ আমান (৫০), ইয়াকুব (৩২) ও অজ্ঞাত দুজনকে। এ ছাড়া ভুক্তভোগী নিজের সৎ মা মোসা রিনাকেও (৪০) মামলার আসামি করেছেন।

মামলার এজাহারে আসামিদের ‘খুবই হিংস্র’, ‘লম্পট’, ‘সন্ত্রাসী’, ‘মাদক ব্যবসায়ী’, ‘চাঁদাবাজ’, ‘নারী নির্যাতনকারী’ , ‘ধর্ষণকারী’, ‘খারাপ ব্যক্তি’ বলে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী।

এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, আসামিরা কোনো আইনকানুন তোয়াক্কা করে না। গায়ের জোরে করতে পারে না- এমন কোনো কাজ নেই। আসামিরা বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড করে জীবিকা নির্বাহ করে। রাতের বেলা (১৮ আগস্ট) আমাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও পিস্তল দেখিয়ে একজনের পর একজন জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আমানের ঘরে। এ ঘটনা কাউকে বললে বা থানা পুলিশ করলে তাকে ও তার স্বামীকে হত্যা করবে বলেও হুমকি দেয়।

ভুক্তভোগী এজাহারে বলেছেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। জ্ঞান ফিরলে তিনি তার ঘরে ফিরে আসেন। এ সময় আনুমানিক রাত তিনটা বাজছিল। তার দাবি, রাত ১২টা থেকে প্রায় তিনটা পর্যন্ত তাকে গণধর্ষণ করে আসামিরা।

আদালতের কাছে তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার ব্যাপারে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে নানা ধরনের তালবাহানা করতে থাকেন। বিভিন্ন অজুহাতে আমাকে ঘোরানো হয়। আমার স্বামী বাবু জেলে ছিলেন। তিনি মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরলে তাকে ঘটনার ব্যাপারে জানানো হয়।

এরপরই মূলত ভুক্তভোগী আদালতে মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর জানান, গত মাসের ১৮ তারিখ আমার সাথে এই ঘটনা ঘটে। আমার সাথে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে থানা মামলা নেয়নি। তারা বলেন কোর্টে গিয়ে মামলা করতে। আমার সাথে ধর্ষণের মত ঘটে যাওয়া ঘটনায় যারা জড়িত তাদের সবার বিচার চাই। সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।

আপনার সৎ মাকে কেন আসামি করেছেন জানতে চাইলে ভুক্তভোগী বলেন, আমাদের বাসায় আমার সৎ মা নিয়ে গিয়েছিল ওই দিন রাতে। এ কারণেই মামলায় তার নাম দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পরপরই গা ঢাকা দিয়েছেন পল্লবী এলাকার সেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক আমান উল্লাহ আমান। ফলে ঘটনার ব্যাপারে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা. মাহফুজুর রহমান মিয়া বলেন, গণধর্ষণের ঘটনায় আমার কাছে কয়েকটি ফোন এসেছে। তবে এই ঘটনায় কোন অভিযোগ বা কোর্ট থেকে কোন কাগজ আমার কাছে আসে নাই। গণধর্ষণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত আমি কোন অভিযোগ পাইনি।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, আমার থানায় অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি। সিসিটিভি ফুটেজ আছে। ফুটেজ দেখলেই বুঝা যাবে কে এসেছে আর কে আসেনি। স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আমানকে আমি চিনি না। যদি সে অপরাধী হয়ে থাকে সে অবশ্যই আইনের আওতায় আসবে।

ডিআই/এসকে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category